লিসবনে স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াই শেষে আর্সেনাল সমর্থকদের মনে এখন এই একটিই প্রশ্ন- ডেভিড রায়া কি এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক? কাই হাভার্টজের অন্তিম মুহূর্তের গোলে আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতলেও, এই জয়ের প্রকৃত নায়ক স্প্যানিশ গোলরক্ষক রায়া। চারটি অবিশ্বাস্য সেভ করে গানারদের নিয়ে গেছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।
লিসবন সফরের আগে টানা দুই হারে কিছুটা কোণঠাসা ছিল মিকেল আর্তেতার দল। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে কারাবাও কাপের ফাইনাল এবং সাউদাম্পটনের কাছে এফএ কাপের বিদায়ে দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেই দুই ম্যাচে রায়া ছিলেন না; আর্তেতা ভরসা করেছিলেন কেপা আরিজাবালাগার ওপর। সেই ভুলের খেসারত দেওয়ার পর স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে মূল একাদশে রায়ার ফেরাটাই যেন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল।
চলতি মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ২২টি ‘ক্লিন শিট’ রাখা রায়া এখন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো গোলরক্ষকের চেয়ে এগিয়ে। এমনকি ইন্টার মিলানের ইয়ান সোমারও তাঁর পেছনে। ম্যাচের শুরুতেই ম্যাক্সি আরাউহোর একটি বুলেট গতির শট ক্রসবারে লাগিয়ে দলকে রক্ষা করেন রায়া। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে যখন স্পোর্টিং মরিয়া হয়ে আক্রমণ করছিল, তখন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
ম্যাচজয়ী গোলদাতা কাই হাভার্টজ তো সরাসরিই বলে দিলেন, “ফুটবল বিশ্বে রায়াকে এখনো খাটো করে দেখা হয়, কিন্তু আমার চোখে গত দুই মৌসুম ধরে সে-ই বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। সে আমাদের অসংখ্যবার রক্ষা করেছে।”
কোচ মিকেল আর্তেতা অবশ্য সরাসরি ‘সেরা’ তকমা না দিলেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে। তিনি বলেন, “রায়া অসাধারণ, অবিশ্বাস্য। আধুনিক ফুটবলে একজন গোলরক্ষকের কাছ থেকে যা যা চাওয়া হয়, সে তার চেয়েও বেশি দিচ্ছে। বিশেষ করে বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস আমাদের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে।”
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ মৌসুমে এটি আর্সেনাল ও রায়ার সপ্তম ক্লিন শিট, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। প্রিমিয়ার লিগেও ১৫টি ক্লিন শিট নিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে সবার আগে আছেন তিনি। গত মৌসুমেও এই পুরস্কারটি তিনি ভাগ করে নিয়েছিলেন ম্যাটস সেলসের সঙ্গে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে রায়ার এবারের লক্ষ্য আর্সেনালকে বড় কোনো শিরোপার স্বাদ দেওয়া, যার জন্য ২০২০ সাল থেকে অপেক্ষায় আছে লন্ডনের ক্লাবটি।
