আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার পাশাপাশি এবারই প্রথম নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে এসব পরিকল্পনার কথা জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
নির্বাচনী নিরাপত্তার ছক অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দুই আসনের মোট ২৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৯৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৭০৪ জন এবং বগুড়া সদরের ১৫০টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯৯০ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন সশস্ত্র সদস্য সরাসরি প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন সদস্য 'নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ' পরিচালনা করবেন। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই আসনে মোট ৮টি স্ট্রাইকিং টিম গঠন করা হয়েছে। ৮০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবার 'AVMIS' সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগ্য সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের ভাতা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে 'STDMS' সফটওয়্যার। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে মহাপরিচালক সদস্যদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন জনগণের আমানত এবং এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে 'সঞ্জীবন' প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যা কৃষি ও মৎস্য খাতে সদস্যদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
