দফায় দফায় কমছে তেলের দাম

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি COVID-19 মহামারি শুরুর পর থেকে তেলের দামের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।

বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর দাম একদিনে ১৫.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৮২ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনে প্রায় ১৬.৫ ডলার হ্রাস। ২০২০ সালের মার্চে মহামারির শুরুতে তেলের দাম ২৪ শতাংশ কমার পর এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের মূল কারণ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় ১,০০০ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে—এমন প্রত্যাশা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বল্পমেয়াদে দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। সংঘাত শুরুর আগে তেলের দাম প্রায় ৭২ ডলার থাকলেও এখন ২০২৭ সাল পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শোর ক্যাপিটালের বিশ্লেষক জেমস হোসি বলেন, যুদ্ধবিরতি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আবার সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। অবকাঠামোর ক্ষতি, উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং সংরক্ষণ সংকটের কারণে কয়েক মাস পর্যন্ত সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আকস্মিক ঘোষণায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪.৮৪ ডলার কমে ৯৪.৪৩ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১৬.১৩ ডলার কমে নামে ৯৬.৮২ ডলারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত