হঠাৎ করে খেয়াল করলেন ইনডোর প্ল্যান্ট নেতিয়ে পড়ছে। দোকান থেকে কেনার কয়েক দিনের মধ্যেই পাতা হলুদ হয়ে খসে পড়ছে কিংবা চারাগাছ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ জেনে এখননি নেমে পরুন গাছের পরিচর্যায়।
ভুল টব এবং ড্রেনেজ সিস্টেম : নার্সারি থেকে কেনার সময় চারাগাছ সাধারণত বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক প্যাকেটে থাকে। তবে সেই প্যাকেটটি কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই বাড়িতে নিয়ে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই মাটির টবে গাছ বসানোর ব্যবস্থা করুন। এমন টব বেছে নিন, যাতে পানি বেরোনোর পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকে। পানি জমে থাকা শিকড় পচে যাওয়া ইনডোর গাছের প্রধান কারণ।
নার্সারি থেকে বাড়ির পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া : নার্সারিতে চারাগাছ রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে। নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা, উপযুক্ত আলোয় তারা বড় হয়। বাড়িতে আনার পর হঠাৎ পরিবেশ বদলে যাওয়ায় গাছেদের ‘শক’ লাগে। নতুন গাছকে বাড়িতে আনার পর অন্তত এক সপ্তাহ তাকে খুব বেশি নাড়াচাড়া না করে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দিতে হবে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি : গাছ মরে যাওয়ার আরও একটি কারণ হলো অতিরিক্ত পরিচর্যা। নিয়ম করে পানি দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে টবের মাটি পরীক্ষা করে নিন। যদি ওপরের এক ইঞ্চি মাটি শুকনো থাকে, তবেই পানি দিন।
আলোর অভাব বা তীব্রতা : সব ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট একই রকম আলো চায় না। কোনোটি তীব্র রোদ সহ্য করতে পারে। কারও আবার পছন্দ মøান আলোকরশ্মি। কেউ সরাসরি রোদ চায়, আবার কোনোটি বেশি আলোতে নেতিয়ে পড়ে। জানালার ধারে রাখলেও খেয়াল রাখতে হবে কাচের মধ্য দিয়ে আসা কড়া রোদে যেন গাছের পাতা পুড়ে না যায়।
মাটি ও সারের ভুল প্রয়োগ : সাধারণ বাগানের মাটি ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ইনডোর প্ল্যান্ট বিশেষভাবে তৈরি। তাই তার জন্য হালকা এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ‘পটিং মিক্স’ ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত সার দেওয়া গাছের ক্ষেত্রে বিষের মতো কাজ করতে পারে। তাই সে বিষয়েও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। রোজ পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।