আগে কেবল উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার কাজের পরিধি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও দ্যুতি ছড়ান বহুমুখী প্রতিভা মাসুমা রহমান নাবিলা। বিশেষ করে আয়নাবাজি সিনেমায় হৃদি চরিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবেও আলোচিত হন তিনি। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে তুফান সিনেমায় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে আরেক দফা খ্যাতি অর্জন করেন নাবিলা।
গতকাল বুধবার ছিল এই শিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী, কাছের মানুষ ও ভক্ত-অনুরাগীর শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। বিশেষ এই দিনে নিজের ক্যারিয়ার, চলমান ব্যস্ততা, সংসার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। ক্যারিয়ারের এই পরিণত সময়ে এসে নাবিলা যে কেবল গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসাতে চান না, বরং নিজেকে একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তা তার কথাতেই আঁচ করা যায়।
তুফান সিনেমার পর ভক্তদের মতো নিজেও নতুন কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানালেন তিনি। তবে কাজের ক্ষেত্রে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান নাবিলা। তিনি বলেন, ‘আয়নাবাজি ও তুফানের পর দর্শকের মতো আমিও পরবর্তী সিনেমার জন্য অপেক্ষা করছি। তবে এখনই বলার মতো তেমন কিছু নেই। আমি ভালো কাজ করতে চাই, ভালো স্ক্রিপ্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন আমি চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন হয়েছি, কারণ আমার মনে হয়েছে আমাকে হয়তো কিছুটা রিপিটেটিভভাবে দেখা গেছে। আমি সেটা আর করতে চাই না।’
এবার ঈদে কোনো সিনেমা বা ওটিটিতে দেখা না গেলেও ঈদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দমেলার উপস্থাপক হিসেবে দেখা গেছে নাবিলাকে। তবে ঈদের সিনেমা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই সঞ্চালক ও অভিনেত্রী বলেন, এখনকার সিনেমা দেখার সংস্কৃতি তাকে দারুণভাবে আলোড়িত করছে। এবার ঈদের দুটি সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘দম’ দুটোই ভালো লেগেছে। এখন ঈদের সঙ্গে সিনেমার একটা দারুণ সংযোগ তৈরি হয়েছে। আগে এমনটা ছিল না। এখন ঈদের আনন্দের সঙ্গে সিনেমা দেখাও একটা বড় অংশ হয়ে গেছে। প্রতিদিন একটা করে সিনেমা দেখা এটা সত্যিই উপভোগ করেছি। বাকি সিনেমাগুলোও দেখার ইচ্ছা আছে।
সদ্য শেষ হওয়া সুন্দরী নির্বাচনের প্রতিযোগিতা ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’-এ দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে থাকা নাবিলা বলেন, ‘লাক্স প্ল্যাটফর্মের একটা বড় দিক হচ্ছে, এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয় না, বরং ইনার বিউটি এবং অভিনয় দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেয়। এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগে। কারণ সৌন্দর্য মানেই শুধু বাহ্যিক কিছু না, ভেতরের সৌন্দর্যটাই আসল। একজন মানুষ ভেতর থেকে যত বেশি সুন্দর, শান্ত এবং খুশি থাকবে, তার বাইরের সৌন্দর্যও তত বেশি ফুটে উঠবে।’
নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের নিয়ে আশাবাদী নাবিলা মনে করেন, বর্তমানের তরুণরা অনেক বেশি কৌশলী ও বুদ্ধিমান। তিনি বলেন, “অনেকেই প্ল্যাটফর্ম থেকে বের হওয়ার পর একটা লস ফিল করে, কিন্তু আমি মনে করি এখনকার জেনজি অনেক স্মার্ট। তারা এখান থেকে শেখা বিষয়গুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের পথ খুঁজে নিতে পারবে। প্রত্যেকেই যেন ‘সুপারস্টার’ শব্দটার লেগেসি ধরে রাখতে পারে এইটাই আমার আশা।”
প্রসঙ্গত, মাসুমা রহমান নাবিলার মডেলিংয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০০৬ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালিত একটি সার্প ব্লেডের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এ ছাড়া তিনি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী, বাংলালিংক থ্রি জি, রবি, ডাবর ভাটিকা হেয়ার অয়েল, আমিন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন।
বেশ কিছু ম্যাগাজিন এবং খবরের কাগজের প্রচ্ছদে তাকে মডেল হিসেবে দেখা যায়। তিনি ভাটিকা ন্যাচারালস ইউরোপের জন্য একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মনোনীত হন। ২০০৬-এ বাংলাভিশনের ‘এবং ক্লাসের বাইরে’ নামক একটি স্কুল ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে মিডিয়া জগতে নাবিলার পথ চলা শুরু হয়। এরপর তিনি এনটিভির লাইভ কুইজ অনুষ্ঠান ‘জানার আছে বলার আছে’ দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। বিপিএল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি ২০ থেকে ১০০ দিনের কাউন্ট ডাউনে উপস্থাপনা নাবিলাকে এনে দিয়েছে অনন্য এক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা।