রায়ে সন্তুষ্ট নয় আবু সাঈদের পরিবার

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অনেক আসামি তো ছাড়া পায়া গেছে, যারা অপরাধী। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল বলে অসন্তুষ প্রকাশ করেছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, দুইজনকে ফাঁসি দিয়েছে, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিছে। আরও লোকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। 

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আর রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়া গ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম ও চাচাতো ভাই রুহুল আমিন। 

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, এই মুহূর্তে আমরা খুশি নই। আমরা যদি আরও বেশি করে সাজা, বেশি করে অনেক আসামিক ফাঁসি দিলে আমরা খুশি হতাম। তা ছাড়া আমরা খুশি নই। আসামি ছাড়া গেছে, আসামির ফাঁসি হয় নাই, সেই জন্য আমরা অসন্তুষ্ট। এখন আমার অন্তর ভালো হয় নাই, আত্মা ঠান্ডা হয় নাই।’

হতাশা প্রকাশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরাও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হত্যার রায় প্রকাশিত হলেও এই রায়ে আমরা দেখেছি, যারা গুরুদণ্ডে দণ্ডিত, তাদের অনেককে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটি পুনরায় আদালতকে বিবেচনার দাবি রাখব।

এর আগে দুপুরে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তারা হলেন সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায়ে মামলার ২৮ জন আসামির মধ্যে ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত