গাজীপুর সদরের পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে এলাকাবাসীকে জানান দেন পুত্রবধূ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হয় এটি ডাকাতি নয়। এ ঘটনা সাজানো নাটক। নাটক করে ডাকাতি ঘটনা সাজিয়েছেন নিহত আছমা আক্তারের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা।
প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, আছমা আক্তার যখন তার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন তখন সুযোগ বুঝে আসমা আক্তারের ঘরে প্রবেশ করেন আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা। পরে লকারে রাখা সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য চুরি করে নিয়ে যাওয়া সময় দেখে ফেলেন আছমা আক্তার। আর এই দেখে ফেলার কারণে আছমা আক্তারের গলায় গামছা পিছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন পিরুজালী মধ্যপাড়া গ্রামের নিহত শাশুড়ি আছমা আক্তারের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী, পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) ও মধ্যপাড়া গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫)।
এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়ন মধ্যপাড়া গ্রামে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা তার বসতবাড়িতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এবং ডাকাত দলের হামলায় তার শাশুড়ির মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন উর্মী। ডাকাতির ঘটনার আলামত তদন্তে পুলিশের একটি চৌকস টিম কাজ শুরু করে। পরবর্তী পুলিশ পুত্রবধূ উর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। পরে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পুত্রবধূসহ ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার কর জানান, ডাকাতির ঘটনায় পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মীর। আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের সনাক্ত করে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
