কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রহিমা বেওয়া নামে ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বাড়ির উঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে যেকোনও সময় বৃদ্ধাকে ডাকা হয়। ঘরের দরজা খুরে বাইরে এলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কুড়ার পাড় এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত বৃদ্ধা রহিমা বেওয়ার চার মেয়ে এক ছেলে। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী ফয়েজ উদ্দিন মারা যান। তার তিন মেয়ে ও ছেলে পরিবার নিয়ে দিল্লিতে থাকেন। সেখান থেকে মাসে তিন হাজার টাকা পাঠান। তা দিয়ে তার সংসার চলে। একই ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ বাজার এলাকায় থাকেন আর এক মেয়ে। ৩২ শতক ভিটেমাটি ছাড়া কোনো সম্পদ নেই তার । বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। এলাকায় ভালো মহিলা বলে নামও আছে তার।
পাশের বাড়ির সমবয়সী বৃদ্ধা অবিজন বেওয়ার সঙ্গে প্রতিদিন সকালে দেখা করতেন। শুক্রবার সকালে রহিমাকে না দেখে তার বাড়িতে যান তিনি। বাড়িতে গিয়ে গেট খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে দরজার সামনে রক্তাক্ত মরদেহ দেখে চিৎকার দেন তিনি। পরে লোকজন জড়ো হয়।
অবিজন বেওয়া বলেন, ও-ই আমার বাড়ি আসে। আমিও ওর বাড়ি যাই। সকাল হলে দেখা হয়। আমার বাড়িতে যাই। সকালে ডাকতে গেলে দেখি পড়ে আছে। আমি চিক্কুর দিয়া পড়ে গেছি। কারও সাথে ওর বিরোধ নাই। আমার সাথেও নাই। নিহতের পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে ফুলমালা থাকেন একই ইউনিয়নে।
মেয়ে ফুলমালা বলেন, আমার মায়ের কোনও শত্রু নাই। কে এই কাজ করল জানি না। এক বছর আগে বাগানের সুপারি চোর করতে আসছিল কারা। তাদের সাথে মা’র ঝগড়া হইছে। এ ছাড়া আর কিছু নাই।
রামখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বলেন, এটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। এ এলাকার জন্য। বৃদ্ধা ভালো মানুষ বলে সবার কাছে পরিচিত। সবাই বলছে তার সাথে কারও বিরোধ নেই। তার তেমন সম্পদও নেই যে কারণে খুন হতে হবে। তবে, এ এলাকায় কিছু মাদকসেবীর আড্ডা আছে। বছর খানেক আগে কিছু মাদকসেবী ছেলে তার বাগানের সুপারি চুরি করতে এসেছিল। সেটা একটা বিষয় আছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, বৃদ্ধার মাথায় অস্ত্র দিয়ে আক্রোশ মুলক একাধিক আঘাত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটা পরিকল্পিত খুন। তবে খুনের কারণ এখনও জানা যাচ্ছেনা। কারা জড়িত তেমন কোনও তথ্য নেই। পরিবার বলছে কারও সাথে বিরোধ নেই। নানা বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
