ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়োপযোগী চাষাবাদ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে উৎপাদন করায় এবার ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি বাজারদরও রয়েছে কৃষকের অনুকূলে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
স্থানীয় বাজার ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় শতাংশ প্রতি খরচ কমে এসেছে, ফলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখার আশায় রয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়ন পেঁয়াজ উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে। এই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সবচেয়ে বেশি এবং উন্নত মানের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
রূপাপাত ইউনিয়নের বনমালীপুর গ্রামের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী পার্থ কুমার মন্ডল বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও কম ছিল। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতি বছর যে পেঁয়াজ পাই তার থেকে অনেক বেশি, কল্পনাতীত পরিমাণ পেঁয়াজ এবার পেয়েছি। একই গ্রামের কৃষক আনিচুর রহমান বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এক শতাংশে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ফলন হয়েছে।
একই ইউনিয়নের সুতালিয়া গ্রামের আরেক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী সাধন হীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শতাংশপ্রতি উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি শতাংশে এবার সাড়ে তিন মনের মতো পেঁয়াজ পেয়েছি। গত বছর দুই মনের মতো পেয়েছিলাম। পেঁয়াজ এখনই সব বিক্রি না করে ঘরে রেখে দিয়েছি। সামনে দাম আরও বাড়বে—এই আশা করছি।
পাশের বাজিতপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, এবার আমাদের গ্রামের সবাই এত পেঁয়াজ পেয়েছে যে, সব বাড়ির উঠানেই টিনের ছাপড়া নয়তো সামিয়ানা টাঙিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলনে আমরা আশাবাদী। দামও এবার আশানুরূপ আছে। ভবিষ্যতে বাড়বে।
জানা গেছে, অধিকাংশ কৃষকই তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ তাৎক্ষণিকভাবে বাজারজাত না করে বসতঘরের পাটাতন কিংবা উঁচু মাচা তৈরি করে সংরক্ষণ করছেন। দু-এক মাস পর বাজারদর আরও বাড়লে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী হাসান ফিরোজ বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, সময়মতো রোপণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের কারণে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ উৎপাদনে এ অঞ্চলের সাফল্য দেশের কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা মনে করছেন।
