'ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চালু হচ্ছে এপ্রিলের শেষে'

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ-ঢাকা ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ডা. কে এম বাবর।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এতে গোপালগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। অল্প খরচে এ জেলার মানুষ ট্রেনে চড়ে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবেন। এতে অর্থ ও সময় সংশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটবে।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ইউপি চেয়ারম্যানদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সারা দেশের মানুষ ভাবে বিগত সরকার গোপালগঞ্জকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা জানি সেই সরকার গোপালগঞ্জের এমন কোনও উন্নয়ন করেনি, যাতে এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তিনি কি পারত না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারত না গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে? তাহলে তো আমার জেলার মানুষের কর্মসংস্থান হতো।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য অভাব। পৌরসভার পানি মুখে দেওয়া যায় না। তারা নতুন সংযোগও দিতে পারছে না। যে পানি সরবরাহ করে তাও্ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শুনেছি তখন নাকি গোপালগঞ্জ পৌরসভা টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেলো কোথায়? জনগণের জন্য কি একটি পানির প্লান্ট নির্মাণ করা গেল না। যাতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পায়।

ইউপি চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে ডা. বাবর বলেন, আপনারা সমাজের নিরীহ, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালীদের পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন, তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবেন।

উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন না যা জনগণের কোনও কাজে আসবে না। আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন যাতে জনগণ উপকৃত হবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুর রহমান, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা, সাহাপুর ই্উনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার আনাদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত