ম্যাচজুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। অনেক সুযোগও পেল তারা, কিন্তু গোলমুখে খুব একটা কার্যকর হতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা। বিরতির পর এগিয়ে যেতে পারলেও ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারল না আলভারো আরবেলোয়ার দল। তাদের মাঠে পয়েন্ট আদায় করে নিল জিরোনা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুক্রবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন রইল ইউরোপের সফলতম দলটি। লা লিগায় গত রাউন্ডে মায়োর্কার মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল রিয়াল। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মঙ্গলবার ঘরের মাঠে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে যায় তারা। আগামী বুধবার ফিরতি লেগের আগে জয়ে ফেরা হলো না তাদের।
পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য রিয়াল শট নেয় মোট ২২টি, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। জিরোনার ১০ শটের ২টি লক্ষ্যে ছিল। ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় রিয়াল। তবে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ক্রস বক্সে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি এমবাপ্পে। একাদশ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পান ফরাসি তারকা। ব্রাহিম দিয়াজের পাসে দুরূহ কোণ থেকে তার শট আটকে দেন জিরোনার এক ডিফেন্ডার। চতুর্দশ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় জিরোনা। বক্সে ঢুকে উনাহির নেওয়া জোরালো শট দারুণভাবে এক হাতে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।
১৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট করেন ভিনিসিয়ুস। আক্রমণে আধিপত্য ধরে রেখে ২৯তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। দানি কার্ভাহালের পাসে ফেদেরিকো ভালভের্দের জোরালো কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ব্যর্থ করে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক পাওলো গাসানিগা। ৪০তম মিনিটে হেডের চেষ্টায় প্রতিপক্ষের কনুইয়ের আঘাতে রক্তাক্ত হন রিয়ালের ফ্রান গার্সিয়া। কানের পাশে আঘাত পান তিনি। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে চালিয়ে যান খেলা।
দুই মিনিট পর আরেকবার হতাশ হতে হয় রিয়ালকে। দূরের পোস্টে এমবাপ্পের হেড পাসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ভিনিসিয়ুস।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ক্যারিয়ারের আরেকটি চমৎকার গোলে ‘ডেডলক’ ভাঙেন ভালভের্দে। ব্রাহিম দিয়াজের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন উরুগুয়ের তারকা। বল ঠেকানোর মতোই ছিল, কিন্তু পারেননি গাসানিগা। তার হাতে লেগে জালে জড়ায় বল।
রিয়ালের এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬২তম মিনিটে দুর্দান্ত গোলে জিরোনাকে সমতায় ফেরান তমাস লেমা। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের জোরালো শট ঠেকানোর সুযোগ পাননি লুনিন। লা লিগায় টানা আট ম্যাচে অন্তত একটি গোল হজম করল রিয়াল (মোট ১১টি)। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম লিগে টানা এত ম্যাচে গোল খেল তারা। সেবার জিনেদিন জিদানের কোচিংয়েও টানা আট ম্যাচে রিয়ালের জালে গিয়েছিল বল (মোট ১৪ গোল)। গোল হজমের পর রিয়ালের আক্রমণের ধার কমে যায় কিছুটা। বাকি সময়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি তারা। গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল দুয়োধ্বনিও।
৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় দুই নম্বরে আছে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে গত রাতে এস্পানিওলের সঙ্গে খেলেছে। জিতে থাকলে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে তারা।