শতবর্ষ ধরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে বসে বৈশাখের মাছের মেলা। ঐতিহ্যের ধারক এই মাছের মেলায় রুই, কাতল, মৃগেল ও চিতলসহ নানা প্রজাতির মাছের ব্যাপক সমাগম ঘটে। মাছের মেলায় এবার বড় মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও মেলায় লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর সকাল থেকেই মাছের মেলা ঘিরে বিক্রেতা, ক্রেতা ও উৎসুক লোকজনের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর মৎস্য বাজার। বৈশাখ ঘিরে ঐতিহ্য ও বিশেষত্বের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে মুরাদনগর রামচন্দ্রপুর বাজারের মাছের মেলা।
মেলায় কাতলা, রুই, মৃগেল, পাঙ্গাস, গাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের বড় মাছ ছাড়াও রয়েছে চিংড়ি, টেংড়া, পাবদা, শোল আরো নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছ ৫শ থেকে ১২শ টাকা কেজি বিক্রি করছে। ক্রেতারাও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন ঐসব মাছ। আবার মেলা ঘুরতে এসেছেন অনেকেই।
ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম কেজিতে অনেকটা বেড়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, পহেলা বৈশাখ ঘিরে মাছের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা সবধরনের মাছ নিয়ে এসেছি। নববর্ষ উপলক্ষে সবাই বড় মাছটাই বেশি কেনেন। তারা আরো জানান, পরিবহন ও মজুরী খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও ঐতিহ্যের কারণে সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মেলায় ঘুরতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক সফিক সরকার বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এই মেলার বয়স শত বছরের বেশি এবং এটি মুরাদনগরের ঐতিহ্য। মেলা থেকে বড় মাছ কিনে স্বজনদের বাসায় পাঠানো হয় এবং অনেকে মেলার মাছ দিয়ে অতিথি আপ্যায়নও করেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মাছ কিনতে আসা বাবুল মিয়া বলেন, ৯০০ টাকা কেজি করে দুটি কাতল মাছ কিনেছি। অন্যান্য সময় এত বড় মাছ সাধারণত পাওয়া যায় না। এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি বড় মাছ কেনার জন্য।
রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, মেলায় নানা জাতের বড় আকারের মাছ উঠলেও দাম একটু বেশি হওয়ায় বিক্রেতাদের সঙ্গে দরাদরি করে মাছ কিনে নিতে হচ্ছে। তার পরেও সবাই সাধ্যমতো মাছ ক্রয় করছেন।
আগামী দুই মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না
জামালপুর কারাগারে জেলা আ.লীগ নেতার মৃত্যু