চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমকে পাশে চান মেয়র শাহাদাত 

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এই শহর শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার শহর। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই।

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নৈশ ভোজ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের কাজের ভুল ধরিয়ে দেবেন, সমালোচনা করবেন, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র জানান, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে দুইটি ল্যান্ডফিল থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া একটি ল্যান্ডফিল থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যান্ডফিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে মেয়র বলেন, গত বছর আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছি। এ বছর খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে এবং হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ চলমান রয়েছে।

মেয়র জানান, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সুবিধা পাবে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন মাঠ উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।

মেয়র বলেন, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, সিএমপির উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, এডিসি শামসুজ্জামান, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত