গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্ত্রীকে কারখানা থেকে আনতে গিয়ে লাশ হলেন ইবনে সীনা ঔষধ কারখানার এক কর্মচারী স্বামী। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির লেকের পাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত শফিকুল ইসলাম (৫০) বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম এলাকার নবাব আলীর ছেলে। তিনি সফিপুর ইবনে সীনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানায় প্রডাকশন অ্যাটেনডেন্স হিসেবে কাজ করতেন।
এলাকাবাসী, পরিবার, সহকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমি ৩নং গেইট
এলাকায় একতা টাওয়ারের নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। সেখানে থেকে তিনি সফিপুর এলাকায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালে প্রোডাকশন অ্যাটেনডেন্স হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন। গত বুধবার রাত ১০টার দিতে তার স্ত্রীকে কারখানা থেকে আনতে বাসা থেকে বের হন স্বামী শফিকুল। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে কারখানা ছুটি শেষে স্বামীকে না পেয়ে একাই বাসায় ফিরে আসেন তার স্ত্রী। ওইদিন রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে তার সন্ধান মেলেনি। কিন্তু তার নিখোঁজের ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার উল্টো পাশে সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমি লেকের পাড়ে ঝোপে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সকাল ১০টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের কোনো এক সময় ছুরিকাঘাত ও শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যার পর ওই স্থানে তার লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে মহাসড়কের পাশে আনসার ভিডিপি একাডেমির লেকের পাড়ে অজ্ঞাত এক লাশ উদ্ধারের খবরটি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে। এ খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শফিকুলের স্বজন ও সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ওই ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকুনউদ্দিন খান জানান, গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে শফিকুল কারখানায়
ডিউটি শেষে বাড়িতে ফিরে যায়। আর সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। তবে কি কারণে নৃসংস্যভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে?
সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিশির মনির ছায়ামন্ত্রী, পাগল বললেন আমজনতার তারেক
আলোচিত বিচারক মাসদারের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত