চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমির মালিককে না জানিয়ে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি এস্কেভেটর জব্দ ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ এস্কেভেটরটি জব্দ করে এবং চালককে হাতেনাতে আটক করে।
অভিযোগের তীর উঠেছে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম ও তার সহযোগী মোহাম্মদ সৈয়দের বিরুদ্ধে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তারা ওই জমি থেকে মাটি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
জমির প্রকৃত মালিক সাইফুল আলম জানান, উপজেলার উত্তর বন্দর এলাকায় শ্মশানের পাশে তার ৩৮ শতক জমি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জহির আলম ও সৈয়দ তার অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ও তার লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত জহির আলম ও মোহাম্মদ সৈয়দ পালিয়ে গেলেও এস্কেভেটরটি জব্দ করা হয় এবং চালককে আটক করা হয়। আটক চালক ও জব্দকৃত এস্কেভেটর থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত জহির আলম বলেন, অন্য একজনের নিচু জমি ভরাট করার জন্য সেখান থেকে মাটি কাটা হয়েছে। তবে জমিটি কার, তা তিনি জানতেন না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে এস্কেভেটরসহ চালককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনূর আলম বলেন, অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে দুই বছর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
সোনাগাজীতে যুবলীগ সভাপতির বাড়িতে হামলা, নারীসহ আহত ৪