রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত ভূমি আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘ক্ষুদ্র, অসীম’-চ্যাপ্টার ১ শিরোনামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ইজেল আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ১০ জন উদীয়মান শিল্পীর মোট ১২০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। একজন শিল্পীর ১২টি করে চিত্রকর্ম এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এই প্রদর্শনীতে ক্ষুদ্র পরিসরে শিল্পের অসীম সম্ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পীদের ৯ জনই নারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক কাওছার হাসান টগর বলেন, শিল্পচর্চায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। তিনি মনে করেন, শিল্প ও শিল্পীরা এগিয়ে এলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশে শিল্প প্রদর্শনীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি এটিকে একটি সম্ভাবনাময় পরিবর্তন হিসেবে দেখেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, ক্যানভাস ছোট হলেও শিল্পের ভাবনার বিস্তারই আসল বিষয়। এই প্রদর্শনীর অনেক কাজেই সেই গভীরতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তরুণদের সৃষ্টিশীলতার প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, তারুণ্যই সৃষ্টির প্রধান সময়। তিনি বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক বিকাশের ঘাটতি রয়েছে এবং শিল্পচর্চাকে এগিয়ে নিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রসার ঘটানো জরুরি।
ভূমি গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, দেশের চিত্রকলার ইতিহাস সমৃদ্ধ হলেও অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথাযথভাবে পৌঁছাতে পারছে না। বিশ্বের বড় বড় জাদুঘরে শিল্পের বিপুল কদর থাকলেও আমাদের শিল্পকর্ম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারায় শিল্পপ্রেমী ও সংগ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে না। আমার লক্ষ্য, সীমিত পরিসরে থাকা এই শিল্পচর্চাকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট সোহাগ পারভেজ বলেন, তিনি সবসময় ইজেলের সঙ্গে থাকতে চান এবং এই প্ল্যাটফর্মকে সমৃদ্ধ করতে নিজের কাজ যুক্ত করতে আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইজেল শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করবে।
ইজেলের কর্নধার আফরিনা নাজনীন ও রাজিয়া সুলতানা সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আফরিনা নাজনীন বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিল্পের সঙ্গে তার নতুনভাবে পরিচয় ঘটে। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, নারী শিল্পীদের জন্য পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্ম নেই। সেই ভাবনা থেকেই ইজেলের যাত্রা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত চারটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তারা, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন- নাসিরা মোর্শেদ, তানিয়া আক্তার, আমেনা চৌধুরী, আফরোজা নাজনীন লিলি, রূপ রয়, জিসিন্তা ইসলাম, সাদিয়া শহীদ, শাহরীন সুলতানা সিজন, আফরিনা নাজনীন, রাজিয়া সুলতানা।
