এই তো সেদিন তার নেতৃত্বেই ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিল। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদবকে রাখা হবে কিনা- সেটা নিয়ে ইতোমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিসিআই) আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকারের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনে আগরকারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ে ভারত দল ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে। এই সফরটি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তার অধীনে ভারত টি-টোয়েন্টি শিরোপা ধরে রাখতে পারলেও, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সূর্যকুমারকে দলে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
২০২৫ সালে সূর্যকুমারের স্ট্রাইক রেট ১২০-এর নিচে নেমে গিয়েছিল এবং তিনি কোনো ফিফটিও পাননি। ২০২৬ সালে ছন্দে ফেরার আভাস দিলেও বড় ম্যাচগুলোতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ০ রানে আউট হন তিনি।
বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সূর্য এখন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একজন ব্যাটার হিসেবে তাকে অবশ্যই ধারাবাহিক হতে হবে। যুক্তরাজ্য সফরে তিনি নেতৃত্ব দেবেন, কিন্তু এরপর ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।’
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকারের মেয়াদে ভারত তিনটি আইসিসি ট্রফি (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬) জিতেছে। এছাড়া ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছে ভারত। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিসিসিআই আগরকারের ওপরই আস্থা রাখতে চাইছে। বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগরকারের সময়ে দলে একটি মসৃণ রূপান্তর ঘটেছে। সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দ্বিধা করেননি। বোর্ড মনে করছে তার কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। আইপিএল চলাকালীন বিসিসিআই কর্মকর্তারা তার সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।’
এদিকে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আশা করছেন। গম্ভীর সূর্যকুমারের ওপর আস্থা রাখলেও নির্বাচক কমিটি অলিম্পিকের সময় ৩৮ বছর বয়সী সূর্যকুমারকে নিয়ে কতটা আগ্রহী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণ তুর্কিরা পাইপলাইনে থাকায় সূর্যকুমারের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই অগ্নিপরীক্ষা।
