আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল ইরান

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের ওপর থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেয়, তবে ইরান পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে আগ্রহী। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘শার্গ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই শর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। ইরাভানি জানান, যেকোনো নতুন সংলাপে বসার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের বর্তমান বৈরী আচরণ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান তার জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপস করবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান কখনোই কোনো সামরিক আগ্রাসনের সূচনাকারী হতে চায় না। তারা সবসময় রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে কেউ যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তবে ইরানও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে ইরান যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলেও তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

পরিশেষে, ইরাভানির এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে ইরান কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে চায়, কিন্তু তার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গঠনমূলক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন এই শর্তের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত