রাশিয়ার খেলাধুলায় প্রাতিষ্ঠানিক ডোপিং বা রাষ্ট্রীয় মদদে নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার কলঙ্কজনক অধ্যায়ের তদন্ত শেষ হয়েছে। বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ‘অপারেশন এলআইএমএস’-এর মাধ্যমে রাশিয়ার ২৯১ জন ক্রীড়াবিদকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট উইটোল্ড বাঙ্কা একে ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে সফল তদন্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মস্কো ডোপবিরোধী ল্যাবরেটরি থেকে উদ্ধার করা তথ্য ও নমুনার ওপর ভিত্তি করে এই তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্তের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
- ২৯১ জন অ্যাথলেটের বিরুদ্ধে ৩০২টি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- মোট ২২টি ভিন্ন খেলার অ্যাথলেটরা এই তালিকায় রয়েছেন।
- ভারোত্তোলনে ১০৭টি এবং অ্যাথলেটিক্সে ৯৩টি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- মস্কোর ল্যাবরেটরি থেকে প্রায় ২৪ টেরাবাইট ডেটা উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এই জালিয়াতি ধরতে মূল ভূমিকা পালন করে।
এই তদন্তের ফলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিকে সাফল্য পাওয়া অনেক অ্যাথলেটের অর্জন ধূলিসাৎ হয়েছে। ডোপিং প্রমাণিত হওয়ায় মোট ১৪ জন পদকজয়ী অ্যাথলেটের মেডেল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুরনো রেকর্ড ঘেঁটে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নিষিদ্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য অ্যাথলেটদের মধ্যে রয়েছেন ইলেনা লাশমানোভা, ইভান উখোভ এবং তাতিয়ানা তোমাশোভা। বিশেষ করে তোমাশোভাকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ওয়াডা প্রেসিডেন্ট উইটোল্ড বাঙ্কা বলেন, "২০১৮ সালে রাশিয়ার ডোপবিরোধী সংস্থাকে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই আজ আমরা সত্যের মুখোমুখি হতে পেরেছি। সেই সময় অনেক সমালোচনা হলেও, সেই কৌশলের কারণেই আমরা মস্কো ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হাতে পাই এবং দোষীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হই।"
অপারেশন এলআইএমএস-এর সমাপ্তি কেবল রাশিয়ার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই একটি সতর্কবার্তা। এই তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পদ্ধতিগত তদন্তের মাধ্যমে কয়েক দশক আগের জালিয়াতিও ধরা সম্ভব। এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কেবল চারটি মামলার চূড়ান্ত রায় আসা বাকি রয়েছে। বাকি সব ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৯ সালে রাশিয়ার ওপর সব ধরনের বড় টুর্নামেন্টে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা ২০২৩ সালে শেষ হয়। তবে ইউক্রেন আক্রমণের কারণে বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা রুশ অ্যাথলেটদের নিজস্ব পতাকাতলে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু সংস্থা তাদের পতাকা নিয়ে ফেরার অনুমতি দিতে শুরু করেছে।
‘ফুটবল সুখকর জায়গা নয়’, ছেলেকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান এনদ্রিক