গিনেস বুকে নাম লেখালেন পিরোজপুরের সিফাত

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)। ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বীকৃতি আসে গত ২৮ এপ্রিল। 

সিফাত আকন জানান, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তার চোখে পড়ে। কৌতূহল থেকে তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। জানতে পারেন, বাংলাদেশেও কেউ কেউ এ ধরনের রেকর্ড গড়েছেন। তখনই তিনি পরিকল্পনা শুরু করেন। করোনাকালে মাস্ক ব্যবহার বাড়ায়, মাস্ক–সম্পর্কিত কিছু করার কথাই প্রথমে মাথায় আসে। এরপর সিদ্ধান্ত নেন, মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বেন।

সিফাত বলেন, ‘এই রেকর্ডটি প্রথম করেছিলেন একজন ভারতীয়। তিনি সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন। তখনই আমি রেকর্ড ভাঙার কথা ভাবি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাইনি।’

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সেখানেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা পাননি।

সিফাত জানান, যারা আগে রেকর্ড করেছেন, তাদের ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়ে প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। তবে সেখান থেকেও তেমন সাড়া পাননি। তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যাটা হলো তথ্যের অভাব। গাইডলাইন ঠিকমতো পাওয়া যায় না। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ—সব মিলিয়ে প্রায় ৯ মাস সময় লাগে।’

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটিতে তিনি অনুশীলন শুরু করেন। শুরুতে ২৫-২৬ সেকেন্ড সময় লাগত। কারণ, চ্যালেঞ্জ ছিল দুটি—চোখ বাঁধা থাকায় মাস্ক হাতে নিতে সময় লাগত এবং সঠিকভাবে পরাও কঠিন ছিল। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই ও বন্ধু ইমনের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছেন তিনি।

১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন সিফাত। তিন মাস পর, ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তার রেকর্ড স্বীকৃতি পায়। এ খবর শুনে সিফাতের চেয়েও বেশি খুশি হন তার মা।

সিফাত উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এক মিনিটে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে আলিঙ্গন (হাগ) এবং সর্বোচ্চসংখ্যক ‘হ্যান্ডশেক’ করার রেকর্ড নিয়েও ভাবছেন তিনি।

সিফাতের বাবা আবদুল জলিল, যিনি বনরক্ষী হিসেবে কর্মরত, বলেন, ‘ছেলের এই সাফল্যে আমি খুবই আনন্দিত। ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে যে রেকর্ড গড়েছে, তা গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।’

ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, ‘সিফাত আমাদের এলাকারই সন্তান। অনেক অধ্যবসায়ের ফলে সে ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এটি আমাদের এলাকার গর্ব। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে—এটাই প্রত্যাশা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত