হজে ফজিলতপূর্ণ ১০ দোয়া

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

হজ এমন এক মহিমান্বিত ইবাদত, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে বান্দা তার রবের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে। হজের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দোয়া ও জিকির, যা মুমিনের অন্তরকে আরও বিনম্র ও আল্লাহমুখী করে তোলে। তাই হজের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নির্দিষ্ট দোয়াগুলো জানা ও যথাযথভাবে পাঠ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা ইবাদতকে করে তোলে আরও পরিপূর্ণ ও অর্থবহ। হজের দিনগুলোতে ফজিলতপূর্ণ ১০টি দোয়া উল্লেখ করা হলো। 

এক. ইহরাম বাঁধার পর তালবিয়া : ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।

দুই. মসজিদে হারামে প্রবেশের দোয়া : ‘বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি), আল্লাহর রাসুলের উপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।

তিন. তাওয়াফের প্রতি চক্করের দোয়া : ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।’ অর্থাৎ হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।

চার. তাওয়াফ শেষে দোয়া : ‘ওয়াত্তাখিজু মিম মাক্বামি ইবরাহিমা মুসাল্লা।’ অর্থাৎ তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমে এই দোয়া পড়তে হয়।

পাঁচ. সাঈ শুরুর দোয়া : ‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ, আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি।’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি সেটা দিয়ে শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন। সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে এই দোয়া পড়দে হয়।

ছয়. সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দোয়া : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইয়ুহযয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তারই। তিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি তার ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল দলকে পরাজিত করেছেন। 

সাত. আরাফাতের ময়দানের দোয়া : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তারই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আট. হজের ৫ দিন তাকবিরে তাশরিক : ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ অর্থাৎ আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আছর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পড়া ওয়াজিব।

নয়. কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তাকবির : ‘আল্লাহু আকবার।’ অর্থাৎ আল্লাহ মহান। প্রতিটি কঙ্কর ছুঁড়ে দেওয়ার সময় এই তাকবির বলতে হয়।

দশ. মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার দোয়া : ‘বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক।’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আল্লাহর রাসুলের উপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত