গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে বয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে লেসন লার্নড ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এসকেএস ইন রিসোর্টে সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডিপুটি ডিরেক্টর খন্দকার জাহিদ সরওয়ার, প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে একটি ভয়াবহ ঘুর্নিঝড়ে ওই এলাকায় বাড়ি-ঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়।
পরে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহায়তায় "র্যাপিড রেসপন্স ফর স্টর্ম অ্যাফেক্টেড কমিউনিটি ইন রাজাহার ইউনিয়ন”নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। সেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
লেসন লার্নড ওয়ার্কশপে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০টি পরিবার কে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময়ে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপকারভোগীরা এই সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং আশ্রয় মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তালিকা প্রকাশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং ইউনিয়ন পরিষদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করে তোলে।
এছাড়াও প্রকল্পের অংশ হিসেবে পরবর্তী মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সহায়তার ব্যবহার এবং এর প্রভাব যাচাই করে দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবারই প্রাপ্ত সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করে তাদের জরুরি প্রয়োজন পূরণ করতে পেরেছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
কর্মশালায় ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার, তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি এবং আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জরুরি সাড়া কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও মানবিক করে তুলতে সহায়তা করবে বলে বক্তারা জানান।
