দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যতালিকায় ডিম জরুরি জিনিস। তাই ব্যস্ত জীবনে অনেকেই একসঙ্গে দু-তিন ডজন ডিম কেনেন। কিন্তু মুশকিল হলো, একসঙ্গে সব ডিম তো ফ্রিজে রাখা যায় না। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডিম কতক্ষণ পর্যন্ত রাখা যায়, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মও অধিকাংশরাই জানি না। এই গরমে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডিম দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা উচিত নয়। তবে আবহাওয়া যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম হয়, তবে এই সময়সীমা কমে মাত্র এক ঘণ্টা হয়ে যায়। কারণ গরমে সালমোনেল্লার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, যেখান থেকে খাবারে বিষক্রিয়া হয় এবং শরীরে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (ঋউঅ)।
কেন ডিম ফ্রিজে রাখবেন : ডিমের খোসার ওপর ‘কিউটিকল’ নামক প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা স্তর থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশে বাধা দেয়। আমেরিকা বা ভারতের মতো দেশে অনেক সময় ডিম ধুয়ে বিক্রি করা হয়। ফলে এই স্তরটি নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের কম তাপমাত্রায় এরা চট করে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তাই ডিমের গুণমান দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। তবে ইউরোপের অনেক দেশেই এই পদ্ধতি মানা হয় না। সে ক্ষেত্রে ডিম ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ডিম ভালো না নষ্ট : একটি পাত্রে বেশ খানিকটা পানি নিন। এবার তার মধ্যে গোটা ডিম দিয়ে দিন। ডিমটি ডুবে থাকলে বুঝবেন এটি টাটকা। আর ভেসে উঠলে বুঝবেন সেটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ডিম ফাটিয়ে যদি বাজে গন্ধ পাওয়া যায় বা হলুদ রঙের কুসুমে রক্তের মতো লালচে রেখা বা স্তর দেখা যায়, তবে তা ব্যবহার না করাই শ্রেয়। অনেকগুলো ডিম একসঙ্গে রাখতে হলে পিচবোর্ডের বাক্সে ভরে রাখাই ভালো। ফ্রিজে রাখার আগে ডিম ধুয়ে নেন। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে ডিম না ধোয়াই শ্রেয়।
