সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে। বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুর জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
এসময় তিনি আরও বলেন, ১৬টি মেগা প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে গিয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি। ঠিকাদার পালিয়ে গিয়েছে, শুরু করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে বিদেশি দাতা সংস্থা যারা আছে, যারা আমাদের বন্ধু হিসেবে বড় বড় প্রকল্পে সহযোগিতা করতো, তারা এখন অনীহা প্রকাশ করছে ১৮ বছরের দুর্নীতি ও আনুষ্ঠানিকতার প্রক্রিয়ার কারণে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যমুনা সেতু আমরা করেছিলাম। পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরা নিয়েছিলাম। ২০০২ থেকে ২০০৫ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছিলো ও মাওয়াতে এলাইনমেন্ট নির্দিষ্ট করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। কিন্তু পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেছিলো। আমি যতটুকু বুঝি অর্থের অপচয় হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে কিন্তু পদ্মা সেতুটা হয়েছে। অর্থের ব্যয় কমানো যেত, সচ্ছলতার সঙ্গে করা যেত সেটাই জনগণের দাবি ছিল। যারা করতে পারেনি দায়বদ্ধতা তাদের। অর্থের অপচয় করেছে, তাদের কিন্তু আইনি ব্যবস্থার দাবি রাখে, সেটি চলমান আছে। বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন চায়, জবাবদিহিতার শাসন চায় এবং টেকসই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চায়।
সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামানসহ অন্যান্যরা।
মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিলে নগদ পুরস্কার এমপি হানজালার