দেশের অর্থনীতি ‘পেইনফুল’ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

দেশের বর্তমান অর্থনীতি ‘পেইনফুল’ অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ পরিস্থিতি গত কয়েক বছর থেকে বিদ্যমান বলে তিনি জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসির (বিএসআইসি) ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড ১’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পেইনফুল বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, এটা সবাই জানে। আমরা ব্যাংকিং খাতের সমস্যা থেকে বের হতে চাই। এগুলোর সবই অর্থনীতির একটা অংশ। এসব বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আছে। সবাই মিলেই এর সমাধান করব।’ এ সময় তিনি জানান, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।

তিনি বলেন ‘ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা থেকে বের হতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য মূলধন জোগান দিতে হবে। বাংলাদেশে জেপি মরগান আবার আসছে। আইএফসি আমাদের সঙ্গে কাজ করবে।’ বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট রিফর্মে যাচ্ছি। বড় ধরনের সংস্কার হবে। আমরা বিগওয়েতে সিরিয়াস রেগুলেশনে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, বাংলাদেশের ৩৯টি ব্যাংকের উদ্যোগ গড়ে ওঠা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল দেশের স্টার্টআপ খাতে এবার প্রথমবারের মতো দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত হলো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার (৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রতিশ্রুত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই প্ল্যাটফর্ম। এর কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে অংশীদার ব্যাংকগুলো প্রতিবছর তাদের নিট মুনাফার ১ শতাংশ এই তহবিলে প্রদান করবে। ফলে এটি কোনো এককালীন তহবিল নয়; বরং একটি ধারাবাহিক মূলধন কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তহবিলটি সিড, লেট-সিড এবং সিরিজ, এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগের ফল হিসেবেই এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার গত ৫ বছরের ১ শতাংশ করে এই তহবিলে বিনিয়োগের অনুমতি দেয় এবং বিএসআইসির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত কাঠামো নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, এই বিনিয়োগের সুফল যেন প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণও পায়। কারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাইরে থাকলে একটি বড় অংশ বঞ্চিত থাকবে। সামনে আরও একটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি।’

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ৪৫০টির বেশি বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন এসেছে। তবে এর মধ্যে ৭ শতাংশের কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।

এ সময় গভর্নর দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছেন, যা ছোট দোকান থেকে বড় শপিংমল সব জায়গায় একই বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস ব্যবহারকারীরাও সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। স্মার্টফোনে কিউআর স্ক্যান করেই দ্রুত পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, বিএসআইসি শুধু একটি ফান্ড নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের স্বপ্নকে পেশাদার ও সুশৃঙ্খল মূলধনের সঙ্গে যুক্ত করবে।

অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অঙ্গনের অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বি ক্যাপিটালের সাবেক জেনারেল পার্টনার এবং বর্তমান সিনিয়র অ্যাডভাইজর সামি আহমদকে বিএসআইসি বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন ভেঞ্চারসুক, ওয়েভমেকার পার্টনার্স (সিঙ্গাপুর), ফাইভ হানড্রেড গ্লোবাল, প্লাগ অ্যান্ড প্লে, এডিবি ভেঞ্চারস, জিএফআর ফান্ড, স্টার্জন ক্যাপিটাল, কনজাংশন ক্যাপিটাল এবং অরবিট স্টার্টআপসের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম টেক ইন এশিয়া ও এফডব্লিউডি স্টার্টও অংশ নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত