অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। তবে আদালত তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত শুনানি শেষে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিনের আবেদন গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তার বিদেশযাত্রার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে তার বিদেশ ভ্রমণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনটি আদালত গ্রহণ করেননি।
এদিন সকালে আনিস আলমগীর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনটি পৃথক আবেদন করেন- স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ এবং বিদেশযাত্রার অনুমতি। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে দুটি আবেদন মঞ্জুর করলেও হাজিরা মওকুফের বিষয়টি নাকচ করে দেন। এর আগে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্তে তার নামে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা।
দুদকের দাবি অনুযায়ী, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা তার মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই অসংগতিপূর্ণ সম্পদকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। এর আগে গত ১১ মার্চ এই মামলায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা অন্য একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। আজকের এই স্থায়ী জামিনের আদেশের ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান এই আইনি লড়াইয়ে একধাপ অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
