ইরান ইস্যু, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এক দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩২ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক শূন্য চার ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরান ইস্যুতে আর খুব বেশি ধৈর্য ধরবেন না এবং তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের পরপরই বাজারে তেলের দামে উল্লম্ফন দেখা যায়।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ইরান ইস্যুতে চীন বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা বেইজিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং আলোচনায় এখনো কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও ইরান সংকট ঘিরে অচলাবস্থার শঙ্কা থেকেই বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, সামরিক উত্তেজনা ফের বাড়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে একটি জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা আটক করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এর আগের দিন ওমান উপকূলে আফ্রিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গবাদি পশুবাহী একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
