ফেনীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গুলোতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি ক্লাসের নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনব্যাপী এই পরীক্ষা নিচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি মূলত নতুন কারিকুলামের আলোকে ধারাবাহিক ক্লাস এসাইনমেন্ট এবং `সামষ্টিক' মোট সামারি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা (অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক) নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হবে এবং নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষাবর্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (ক্লাস ওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট) এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন (অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা) মিলিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি হবে।
কোনো প্রথাগত লিখিত পরীক্ষা নয়, বরং বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে (যেমন- অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট, উপস্থাপন, দলীয় কাজ) শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শিক্ষার্থীদের সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি বা কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। বছরের শেষে (সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর) একটি বিশেষ বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
ফেনী জেলার ৩৩৭ টি সরকারী-বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা না মেনে তাদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে প্রথম সাময়িক, ক্লাস টেষ্ট, মেধা যাচাই, টিওটোরিয়াল ও মডেল টেষ্টসহ নানা নামে নির্দিষ্ট ফি আদায় করে পরীক্ষা নিচ্ছে।
জানা গেছে , সকল প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা ফি হিসেবে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসা প্রতিটি ক্লাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ফি এর বিনিময়ে প্রথম মধ্য পর্ব নামে পরীক্ষা নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাগাজীর ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ষষ্ঠ-সপ্তম পরীক্ষার ফি ২০০, অষ্টম পরীক্ষার ফি ২৫০, ৯ম-১০ম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা আদায় করে পরীক্ষা নিচ্ছে।
তবে শহর কেন্দ্রীক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গুলোতে ফি এর পরিমান আরো বেশী। এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে যদি ৫০০ ছাত্র-ছাত্রী থাকে আর গড়ে ২৫০ টাকা করে আদায় করা হয় তাহলে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। আর এ টাকা বিদ্যালয়ের কোন খাতে ব্যায় হয়, তার হিসার জানা নেই অনেক শিক্ষকের। অনেকে এর জন্য প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপরে ওসমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তা অস্বীকার করে কল কেটে দেন।
ফেনী বালিগাঁও সুন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়সমুহ ইচ্ছে করলে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাছাইয়ের জন্য ৩০/৫০ মার্কের পরীক্ষা নিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি অর্ধেক বা আরো কম হবে।
সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা গুলোতে বিভিন্ন নামে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি তা ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন।
ফেনী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফি উল্লাহ বলেন, সরকারী নীতিমালার বাহিরে পরীক্ষা নেওয়ার বিধান নেই। কোন অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখ যাবে। পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়টি কমিটি তদারকি করেন বলে জানান।
