আপনার প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
জোহেব আহমেদ : ওয়ালটন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পগোষ্ঠী। ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, আইটি ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছে। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনের সবচেয়ে বড় শক্তি কী বলে মনে করেন?
জোহেব আহমেদ : ওয়ালটনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত বিক্রয় ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক। স্থানীয় বাজার ও গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে দ্রুত পণ্য উন্নয়ন করতে পারা আমাদের বড় একটি সুবিধা। এ ছাড়া দেশীয় শিল্প হিসেবে গ্রাহকদের আবেগ এবং আস্থাও ওয়ালটনের বড় শক্তি।
ওয়ালটন ফ্রিজে বর্তমানে কী ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে?
জোহেব আহমেদ : বর্তমানে ওয়ালটন ফ্রিজে এমএসও প্লাস ইনভার্টার প্রযুক্তি, এআই ও আইওটি প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট কন্ট্রোল ফিচার, ন্যানো হেলথ কেয়ার, দ্রুত কুলিং প্রযুক্তি, ডিজিটাল টেম্পারেচার কন্ট্রোল এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও কম শব্দযুক্ত কম্প্রেসর প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ তৈরিতে ওয়ালটনের উদ্যোগ কী?
জোহেব আহমেদ : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ওয়ালটন ইনভার্টার প্রযুক্তিনির্ভর কম্প্রেসর, উন্নত ইনসুলেশন ও স্মার্ট এনার্জি ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কম বিদ্যুৎ খরচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা, যাতে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে।
স্থানীয় বাজার প্রতিযোগিতায় ওয়ালটন কোন অবস্থায় আছে?
জোহেব আহমেদ : বাংলাদেশের রেফ্রিজারেটর বাজারে ওয়ালটন বর্তমানে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শক্তিশালী বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে গ্রাহকদের কাছে ওয়ালটনের গ্রহণযোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ওয়ালটনের প্রধান কৌশল কী?
জোহেব আহমেদ : উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্য, দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি, দ্রুত সার্ভিস এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা এই বিষয়গুলোই ওয়ালটনের আস্থা অর্জনের মূল কৌশল। আমরা বিক্রির পরেও গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্ব দিই।
বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটন ফ্রিজের জনপ্রিয়তার মূল কারণ কী?
জোহেব আহমেদ : গুণগত মান, আধুনিক ডিজাইন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং দেশের আবহাওয়া ও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হওয়াই ওয়ালটন ফ্রিজের জনপ্রিয়তার মূল কারণ। এ ছাড়া দেশব্যাপী সহজ সার্ভিস সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনলাইন বিক্রয় ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আপনার মতামত কী?
জোহেব আহমেদ : বর্তমানে অনলাইন বিক্রয় ও ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই পণ্যের তথ্য যাচাই, তুলনা ও ক্রয় করতে চান। তাই ওয়ালটন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যাতে গ্রাহকরা সহজে পণ্য ও সেবা পেতে পারেন।
ভবিষ্যতে নতুন মডেলের ফ্রিজ বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে কি?
জোহেব আহমেদ : অবশ্যই। বাজারের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ওয়ালটন নিয়মিত নতুন মডেল ও নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে স্মার্ট ও এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্রিজের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিক্রয়োত্তর সেবাকে ওয়ালটন কতটা গুরুত্ব দেয়?
জোহেব আহমেদ : বিক্রয়োত্তর সেবাকে ওয়ালটন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কারণ একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বিক্রির পর সেবার মানের মাধ্যমে। দেশজুড়ে আমাদের সার্ভিস সেন্টার ও প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান রয়েছে, যারা দ্রুত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করে।
গ্রাহকের অভিযোগ সমাধানে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে?
জোহেব আহমেদ : গ্রাহকদের জন্য কল সেন্টার, অনলাইন সাপোর্ট, সার্ভিস অ্যাপ ও সরাসরি সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু আছে।
ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
জোহেব আহমেদ : ওয়ারেন্টি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশে সার্ভিস নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কী ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করছে ওয়ালটন?
জোহেব আহমেদ : আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য ওয়ালটন গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কম্প্রেসর, স্মার্ট প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব সিস্টেম এবং বৈশ্বিক মানদ- অনুযায়ী কোয়ালিটি কন্ট্রোল নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও জোরদার করা হয়েছে।
