পণ্যের মাধ্যমেই গ্রাহকের সঙ্গে আসল সম্পর্ক

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০১:২৫ এএম

ঈদ এলেই বাড়ে ফ্রিজের চাহিদা। পণ্যটির বছরের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ ঈদ উপলক্ষে বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিক্রি বেশি। এ খাতের বাজার পরিস্থিতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ আয়োজনে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন আরএফএল ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুর আলম।

রেফ্রিজারেটরের দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ভিশনের সবচেয়ে বড় শক্তি কী বলে মনে করেন?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশীয় ক্রেতাদের প্রকৃত প্রয়োজন, বাজেট এবং আমাদের আবহাওয়ার উপযোগী করে পণ্য উৎপাদন করা। ভিশন নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফ্রিজ তৈরি করে, যার ফলে আমরা কোয়ালিটির সঙ্গে কোনো আপস না করেও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দিতে পারছি। এছাড়া দেশব্যাপী আমাদের শক্তিশালী সেলস ও আফটার সেলস নেটওয়ার্ক ক্রেতাদের মনে যে গভীর আস্থার জায়গা তৈরি করেছে, সেটাই আমাদের এগিয়ে রাখছে।

ভিশন ফ্রিজে বর্তমানে কী ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : ভিশন সবসময় ট্রেন্ডি ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার চেষ্টা করে। আমাদের ফ্রিজগুলোতে রয়েছে ১০০ শতাংশ কপার কনডেন্সার, যা দ্রুত ঠা-া করতে অত্যন্ত কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর আক্রমণ থেকে খাবারকে নিরাপদ রাখতে আমরা ব্যবহার করি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গ্যাসকেট। এছাড়া ফ্রিজের ভেতরের ঠা-া ভাব দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে এবং বাইরের উত্তাপ প্রতিরোধ করতে আমরা ব্যবহার করছি বিশেষ মোটা ফোমিং থিকনেস প্রযুক্তি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ তৈরিতে ভিশনের উদ্যোগ কী?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা দূর করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই কারণে ভিশন রেফ্রিজারেটরে ৫-স্টার এনার্জি রেটিং সম্পন্ন ইনভার্টার ও কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তিটি ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করে, যা সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে গ্রাহকের মানিব্যাগের ওপর চাপ কমায়।

স্থানীয় বাজার প্রতিযোগিতায় ভিশন কেমন করছে, অবস্থান কী?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : স্থানীয় বাজারে ভিশন এখন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং দ্রুত বর্ধনশীল একটি ব্র্যান্ড। প্রতিনিয়ত আমাদের মার্কেট শেয়ার বাড়ছে। বিশেষ করে এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা ৫৫৬ ও ৫৬৬ লিটারের প্রায় ১০টি নতুন বড় মডেল এবং ৩০টিরও বেশি আকর্ষণীয় রঙের কালেকশন এনেছি, যা বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ভিশনের প্রধান কৌশল কী?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : আমাদের প্রধান কৌশল হলো পণ্যের স্থায়িত্বের গ্যারান্টি এবং কোয়ালিটির স্বচ্ছতা। বাজারে অনেক ব্র্যান্ড দাম কমাতে সাধারণ কনডেন্সার ব্যবহার করলেও আমরা শতভাগ কপার কনডেন্সার এবং ১০০ শতাংশ ফুড গ্রেড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করি, যা গ্রাহকের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দেয়। আর এই আস্থাকে পাকাপোক্ত করতে আমরা ফ্রিজের হার্ট বা কম্প্রেসরের ওপর দিচ্ছি পুরো ১২ বছরের দীর্ঘ গ্যারান্টি।

বাজারে ভিশন রেফ্রিজারেটরের জনপ্রিয়তার মূল কারণ কী?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : মূল কারণ হলো ‘আধুনিক ডিজাইন, সাশ্রয়ী খরচ আর দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্যতা’ এই তিনের চমৎকার কম্বিনেশন। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি ফ্রিজ চায় যা দেখতে সুন্দর হবে, ভেতরে মাংস বা খাবার রাখার জন্য প্রচুর জায়গা থাকবে, বিদ্যুৎ বিল কম আসবে এবং নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে না। ভিশন ঠিক এই চাহিদাগুলো পূরণ করতে পেরেছে বলেই এটি প্রতিটি পরিবারের পছন্দের শীর্ষে।

অনলাইন বিক্রয় ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ভিশন কী করছে?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : ডিজিটাল যুগে গ্রাহকদের কেনাকাটা সহজ করতে ভিশন অনলাইন বিক্রয়ে ব্যাপক জোর দিয়েছে। বর্তমান সময়ে অনলাইন রেফ্রিজারেটর মেলার মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো গ্রাহকদের ঘরে বসেই পণ্য তুলনা ও পছন্দ করার চমৎকার সুযোগ দিচ্ছে। এছাড়া আমাদের নিজস্ব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং অনলাইন অর্ডারে বিশেষ অফার ও ফ্রি হোম ডেলিভারির মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছি।

ভবিষ্যতে নতুন মডেলের ফ্রিজ বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে কি?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : অবশ্যই আছে। আমরা প্রতিনিয়ত কাস্টমার ফিডব্যাক ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির ওপর আরঅ্যান্ডডি করি। ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি স্মার্ট ফিচারসমৃদ্ধ রেফ্রিজারেটর বাজারে আনার পরিকল্পনা করছি, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও আরও উদ্ভাবনী ডিজাইনের সাইড-বাই-সাইড এবং কনভার্টিবল মডেলের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।

বিক্রয়োত্তর সেবাকে ভিশন কতটা গুরুত্ব দেয়?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : ভিশন মনে করে পণ্য বিক্রির মাধ্যমেই গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের আসল শুরু। তাই আফটার সেলস সার্ভিসকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। আমাদের রয়েছে ৪ বছরের স্পেয়ার পার্টস ওয়ারেন্টি এবং ৪ বছরের ফ্রি আফটার সেলস সার্ভিস। সারা দেশে আমাদের বিস্তৃত সার্ভিস সেন্টারের দক্ষ টেকনিশিয়ানরা সরাসরি গ্রাহকের বাসায় গিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করেন।

গ্রাহকের অভিযোগ সমাধানে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের?

প্রকৌশলী মো. নুর আলম : আমাদের একটি ডেডিকেটেড কাস্টমার কেয়ার টিম ও হটলাইন নম্বর রয়েছে, যেখানে যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত করা হয়। আমরা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। এমনকি বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হলে, ফ্রিজটি মেরামত করার সময়টাতে গ্রাহকের ঘরের মাংস বা খাবার যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা সাময়িকভাবে ‘ব্যাক-আপ ফ্রিজ’ ব্যবহারের সুবিধাও দিয়ে থাকি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত