দেশ রূপান্তর : এবার বর্ষা আসার আগেই নগরবাসী জলাবদ্ধতায় ডুবল। বর্ষায়ও কি একই অবস্থা হবে?
ডা. শাহাদাত হোসেন : গত বছরের বর্ষায় নগরবাসী ৬০ শতাংশের বেশি সুফল পেয়েছিল। এবার এই সুফলতা হবে ৮০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ এবার জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ আরও কমে আসবে। বর্ষার আগ মুহূর্তে যে এত ভারী বৃষ্টি হবে তা ধারণা করা যায়নি। একই সঙ্গে খালগুলোতে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় খালগুলোতে বাঁধ থাকায় পানি নেমে যেতে পারেনি। বাঁধ কেটে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি নেমে গেলে, এখন আর জলাবদ্ধতা দুর্ভোগের তেমন শঙ্কা নেই।
দেশ রূপান্তর : জলাবদ্ধতা নিয়ে চলমান চার প্রকল্পের কাজ আগামী বর্ষার আগেই শেষ হওয়ার কথা। এসব প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৭টি খাল খনন ও সংস্কার, ৪০টি খালের মুখে বসেছে রেগুলেটর ও পাম্প হাউজ। এসবের সবই হস্তান্তর করা হবে সিটি করপোরেশনের কাছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন কি এসব খাল ও রেগুলেটর পরিচালনার জন্য প্রস্তুত আছে?
ডা. শাহাদাত হোসেন : খালের মুখে যেসব রেগুলেটর ও পাম্প হাউজ বসানো হয়েছে সেগুলো কীভাবে মেইনটেনেন্স করা হবে তা নিয়ে একটি ডিপিপি (বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করা হবে। সেই ডিপিপিতে দক্ষ জনবল নিয়োগ ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যেমন নীতিমালা থাকবে তেমনিভাবে তাদের বেতনের সংস্থান কোথা থেকে আসবে তাও উল্লেখ থাকবে। অবশ্যই নির্মাণকারী সংস্থাগুলো সব রেগুলেটরের পরিচালনার একটি ম্যানুয়েল আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। সেই ম্যানুয়েল অনুযায়ী আমাদের টিম কাজ করবে।
দেশ রূপান্তর : কিন্তু খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কারণে সব খালে আগের চেয়ে বেশি বর্জ্য ও পলি জমবে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাবে। এসব খাল থেকে মাটি উত্তোলন কীভাবে করবে সিটি করপোরেশন?
ডা. শাহাদাত হোসেন : বর্তমানে সিটি করপোরেশন নগরীর নালা ও খালগুলো থেকে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মাটি উত্তোলনের কাজ করে। কিন্তু সিডিএর প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খাল ও সিটি করপোরেশনের একটি নতুন খালের বাইরে নগরীতে আরও ২১টি খাল রয়েছে। এই ৫৮টি খাল থেকে কীভাবে জমে থাকা মাটি উত্তোলন করা হবে এবং প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল কীভাবে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করার জন্য নতুন করে আরেকটি ডিপিপি তৈরি করা হবে। সেই ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে কাজ করা হবে। এতে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর নালা ও খাল সংস্কারের জন্য সরকার থেকে ৪৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু এই নগরের নালা ও খালগুলোর বর্তমান গভীরতা কত এর কোনো সার্ভে রিপোর্ট নেই। তাহলে পরবর্তীতে কী পরিমাণ মাটি উত্তোলন হলো তা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? এতে কি অর্থের অপচয়ের সুযোগ রয়েছে কি না?
ডা. শাহাদাত হোসেন : সরকারি অর্থ অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। আমরা চট্টগ্রাম মহানগরীর যেসব নালা ও খাল থেকে মাটি উত্তোলন করা হবে সেসব এলাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করব। ই-জিপির মাধ্যমে ঠিকাদারদের মাটি উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। এসব জোনভিত্তিক মাটি উত্তোলনের তদারকির কাজ করবে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। কী পরিমাণ মাটি তোলা হচ্ছে তা নোট রাখবেন কর্মকর্তারা, আর সেই অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হবে। তাই কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
দেশ রূপান্তর : নগরবাসীর বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে নগরীর নালা-খাল এবং ভাটার টানে গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে। নগরীর বর্জ্যগুলোকে উন্মুক্ত রেখে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী কি উপহার দেওয়া সম্ভব?
ডা. শাহাদাত হোসেন : আমরা গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরের কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দেশ বর্জ্যকে ব্যবহার করে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেসব চুক্তির আলোকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর কোনো বর্জ্য আর নালায় বা খালে পড়বে না। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বাসাবাড়ি থেকে নিজ উদ্যোগে বর্জ্য সংগ্রহ করবে।
দেশ রূপান্তর : কিন্তু এই শহরের অধিকাংশ মানুষ নালা ও খালে বর্জ্য ফেলে। এই বর্জ্য ফেলা রোধ করবেন কীভাবে?
ডা. শাহাদাত হোসেন : নগরীর নালা ও খাল পরিষ্কার না থাকলে নগরবাসী জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে না। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন করতে সিটি করপোরেশন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হলে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১ জন কাউন্সিলর থাকত। এসব কাউন্সিলর স্থানীয়ভাবে জনসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি নালা নর্দমা ও খালগুলো পরিষ্কার আছে কি না তা তদারকি করতে পারত। আমরা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে নগরবাসীকে সচেতন করতে কাজ করছি। একই সঙ্গে নগরবাসী যাতে নালা ও খালে বর্জ্য না ফেলে সেজন্য ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচি সিটি করপোরেশনের আওতায় আবারও শুরু করতে যাচ্ছি।
এ ছাড়া ভাসমান মানুষ যাতে রাস্তায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে সেজন্য সব গণপরিবহনে বিন থাকবে। বাসের যাত্রীরা সেই বিনে ময়লা ফেলবে। একই সঙ্গে সব সিএনজি ও অন্যান্য গাড়ির মধ্যেও বিন রাখতে হবে। পরবর্তীতে এসব ময়লা নির্ধারিত জায়গায় ফেলা হলে যত্রতত্র আবর্জনা থেকে মুক্তি পাবে নগর।
ডা. শাহাদাত হোসেন
মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
