আর্জেন্টাইন বন্ধুর মুখোমুখি হতে উন্মুখ অস্ট্রিয়ার দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

মারাত্মক সব চোটের কবল থেকে ফিরে অবশেষে আলোর মুখ দেখছেন অস্ট্রিয়ার ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার সাশা কালাডজিচ । উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স থেকে লোনে এসে মাত্র দুই দিন আগে (গত রোববার) অস্ট্রিয়ান ক্লাব এলএএসকেকে দীর্ঘ ৬১ বছর পর লিগ শিরোপা ও ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ২ মিটারেরও বেশি লম্বা এই ফুটবলার। এই দুর্দান্ত ফর্মের পুরস্কার হিসেবে তিনি ডাক পেয়েছেন অস্ট্রিয়ার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে।

বিশ্বকাপের আগে ফিফা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, কোচ রালফ রাংনিকের পরামর্শ এবং অধিনায়ক ডেভিড আলাবার প্রভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কালাডজিচ। সাম্প্রতিক সময়ে কালাডজিচকে গোল করার চেয়ে করানোর ভূমিকায় বেশি দেখা যাচ্ছে। শেষ ১০ ম্যাচে তার গোল অবদান ১৩টি। নিজের এই নতুন ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন:

'আমার কাছে সবসময় দল সবার আগে। আমাদের আক্রমণভাগে কিছু অবিশ্বাস্য রকমের গতিশীল খেলোয়াড় আছে, যেখানে গতি বা স্প্রিন্টের দিক থেকে আমি তেমন সেরা নই। তাই আমি চেষ্টা করি আমার চেয়ে ভালো পজিশনে থাকা সতীর্থদের বল বাড়িয়ে দিতে। দলের উপকার হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।"

টানা দুটি বড় চোটের কারণে কালাডজিচের ক্যারিয়ার একসময় থমকে গিয়েছিল। চোট কাটিয়ে ফেরার পেছনে বিশ্বকাপের কোনো বাড়তি প্রেরণা ছিল কি না—জানতে চাওয়া হলে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:

'বিশ্বকাপের চিন্তাটা অবচেতন মনে সবসময়ই থাকে। তবে এ বছর আমার মূল লক্ষ্য ছিল নিজের পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাওয়া এবং ফিটনেস ধরে রাখা। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং যা যা ভাঙাচোরা ছিল তা এখন ঠিক হয়ে গেছে। সত্যি বলতে, আপনি যদি পুরোপুরি সুস্থ না থাকেন এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত না খেলেন, তবে বিশ্বকাপের টিকিট পাবেন না।'

গত কয়েক বছরে অস্ট্রিয়া দলের উন্নতির গ্রাফ নিয়ে কালাডজিচ বেশ আত্মবিশ্বাসী। রাংনিকের অধীনে আক্রমণাত্মক ও হাই-ইনটেনসিটি ফুটবল খেলা অস্ট্রিয়া এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে। দলের শক্তির জায়গা নিয়ে কালাডজিচ বলেন:

'আমাদের দলে অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা আছে, তবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দলের ঐক্য ও লড়াকু মানসিকতা। আমরা মাঠে যে হাই-ইনটেনসিটির ফুটবল খেলি, তা যেকোনো প্রতিপক্ষের জীবন কঠিন করে তুলতে পারে। এই দল নিয়ে আমরা পৃথিবীর কোনো প্রতিপক্ষকেই ভয় পাই না। পুরো দেশ এখন ফুটবলের জোয়ারে ভাসছে।'

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেস (সাবেক স্টুটগার্ট সতীর্থ) এবং আলজেরিয়া দলে থাকা তাঁর কিছু পুরোনো ক্লাব সতীর্থদের মুখোমুখি হতে মুখিয়ে আছেন কালাডজিচ, 

‘অতীতে যাদের সঙ্গে খেলেছি, মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের মুখোমুখি হতে আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেসের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। সে এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এছাড়া আলজেরিয়া স্কোয়াডেও এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের সঙ্গে আমার উলভস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে খেলার সুবাদে চেনা-জানা আছে। তাই তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি তর সইছে না। তবে সত্যি বলতে, আমি পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাটা পাওয়ার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি একটি বিশাল বড় মহাযজ্ঞ। আমার মনে হয় একজন ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে আপনি সর্বোচ্চ যা অর্জন করতে পারেন, এটিই হলো সেই শীর্ষবিন্দু।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত