বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফুটবলবিশ্ব। হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই সেলেসাও ব্রিগেডের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন হতে যাচ্ছেন তরুণ স্ট্রাইকার এনদ্রিক। বিশ্বকাপ দলে তাকে নিয়মিত খেলানো এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল কাণ্ডারি করার জন্য দেশটির ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমে চলছে তুমুল প্রচারণা।
তাকে নিয়ে চারপাশের এই উন্মাদনা, জাতীয় দলের জার্সির চাপ এবং বিশ্বকাপে নিজের লক্ষ্য নিয়ে ব্রাজিলের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম 'ও গ্লোবো'-র সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তরুণ সেনসেশন।
ফুটবল মহলে এনদ্রিকের একটি বড় খ্যাতি রয়েছে—তিনি নাকি সেলেসাও বা রিয়াল মাদ্রিদের মতো ভারী জার্সির কোনো চাপই অনুভব করেন না! মাঠে তার শান্ত ও পরিণত পারফরম্যান্স দেখে তেমনটাই মনে হয় সবার। এই প্রসঙ্গে এনদ্রিক বলেন, বাইরের মানুষ যেভাবে ভাবে, চাপ সামলানো সবসময় ততটা সহজ নয়। তবে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে ভালোবাসেন।
বিশ্বকাপে তাকে শুরুর একাদশে রাখার জন্য সমর্থকদের অবিরত যে সমর্থন ও ক্যাম্পেইন চলছে, তা নিয়ে এনদ্রিক নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সমর্থকদের এই ভালোবাসাই তাকে মাঠে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায়, কোনো চাপ সৃষ্টি করে না।
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কোচ তাকে শুরুর একাদশে রাখবেন নাকি 'সুপার সাব' বা বদলি হিসেবে ব্যবহার করবেন—তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না এনদ্রিক। তার কাছে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্য অনেক বড়। ও গ্লোবো-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের ফুটবল দর্শনের এক দারুণ পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে বলেন, 'আমি মাঠে খেলার জন্য ১ মিনিট সময় পাই কিংবা ১০০ মিনিট—সেটা কোনো বিষয়ই নয়। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেলেই নিজের সবটুকু উজাড় করে দেব। দলের জয়ে অবদান রাখাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।'
বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়াকে নিজের দীর্ঘ পথচলার ফল হিসেবে দেখছেন এনদ্রিক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। তবে এটা একটা পুরস্কার, লটারিতে প্রাইজ জেতার মতো কোনো ঘটনা নয়।
‘আমার পরিবারকে চাকরি-বাকরি ছাড়া অচেনা শহরে এসে কঠিন দিন পার করতে হয়েছে। দল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতাও আমার আছে। গত ১০ বছর ধরে প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে থেকে নিজেকে প্রমাণ করে আজ এই জায়গায় এসেছি।’
চলতি মৌসুমে ২১ ম্যাচে ৮ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেন এনদ্রিক। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দ্রুত মাঠে ফেরার জন্য লিওঁকে বেছে নিয়েছিলাম। সেখানে ভালো একটি গ্রুপের সাথে চোট কাটিয়ে ফর্মে ফেরাটাই লক্ষ্য ছিল। বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়াটা সেই কঠোর পরিশ্রমেরই ফল।’
পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতকে টপকালো বাংলাদেশ