বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুদ্রার তুলনায় টালমাটাল ভারতীয় রুপি

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

শুধু মার্কিন ডলারের বিপরীতেই নয়, গত এক বছরে বাংলাদেশি টাকা ও পাকিস্তানি রুপির তুলনায়ও মূল্য হারিয়েছে ভারতীয় রুপি। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে এর পেছনের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিভিন্ন আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ১ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে পাওয়া যেত প্রায় ৩.২৯ পাকিস্তানি রুপি। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে সেই হার নেমে এসেছে প্রায় ২.৯০ পাকিস্তানি রুপিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানি মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় রুপির মান কমেছে প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি।

একই সময়ে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতেও ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে ১ ভারতীয় রুপির বিনিময় মূল্য ছিল প্রায় ১.৪২ বাংলাদেশি টাকা, বর্তমানে তা কমে প্রায় ১.২৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে বাংলাদেশি টাকার তুলনায়ও রুপির মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির চাপও বেড়েছে। বুধবার প্রতি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার প্রায় ৯৬.৯৬ রুপিতে পৌঁছেছে, যা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু দেশটি জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাই তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মুদ্রাবাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ বাজারে ঝুঁকছেন। এর ফলে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, রুপির অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, আমদানিনির্ভর পণ্য ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতিও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে রুপির দুর্বলতা ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভ্রমণ খাতে প্রভাব ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকলে স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় রুপির অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী কয়েক মাসে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ রুপির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত