ভারতে শুরু হওয়া ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবার ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটিতে ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’, ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ এবং ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’ নামে একাধিক পেজ ও সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে, যা পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভারতে গত ১৬ মে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ অল্প সময়েই ভাইরাল হয়ে ওঠে। তেলাপোকাকে প্রতীক করে এই ব্যঙ্গ আন্দোলন নিজেদের দাবি করে- যারা বেকারত্ব, সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক হতাশার মধ্যেও টিকে থাকার লড়াই করছে, তারাই এই দলের কণ্ঠস্বর।
এখন সেই ধারণা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যেও স্থান করে নিয়েছে। পাকিস্তানের ‘ককরোচ আওয়ামি পার্টি’র একটি ফেসবুক পেজের বায়োতে লেখা হয়েছে, ‘তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য।’ আরেকটি পেজে লেখা, ‘যাদের এই ব্যবস্থা তেলাপোকা মনে করেছে, আমরা তাদেরই কণ্ঠস্বর।’
পাকিস্তানি সংস্করণগুলোর লোগো ভারতীয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতোই, তবে সেখানে সবুজ-সাদা রং ব্যবহার করে পাকিস্তানের পতাকার প্রতি ইঙ্গিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পাকিস্তানের প্রচলিত তিন বড় রাজনৈতিক দল-পিটিআই, পিএমএল-এন ও পিপিপির বাইরে তরুণদের নিজস্ব পরিচয় তৈরির এক প্রতীকী উদ্যোগ।
ভারতের মূল সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির ৩০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। তিনি আগে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। ভারতীয় সংস্করণটির নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ইশতেহার থাকলেও পাকিস্তানি উদ্যোগগুলো এখনো অনেকটাই স্বতন্ত্র ও ছড়ানো-ছিটানো প্রকৃতির।
উল্লেখ্য, ভারতে এই ব্যঙ্গ আন্দোলনের সূত্রপাত দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি কিছু বেকার তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘তেলাপোকার মতো কিছু তরুণ আছে, যাদের কোনো চাকরি নেই, পেশায় কোনো জায়গা নেই।’ পরে তিনি অবশ্য ব্যাখ্যা দেন যে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
তবে সে ব্যাখ্যা আর থামাতে পারেনি ‘তেলাপোকা’ বিদ্রোহকে। যুব ও বেকার সমাজ এখন এই প্রতীক নিয়েই তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে- ভারতে যেমন, তেমনি এখন পাকিস্তানেও।
সূত্র: এনডিটিভি
