নাটকের পর নাটক। জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ধারাবাহিক সেই নাটকের শেষ পর্ব মঞ্চস্থ হলো শুক্রবার। বাফুফের সভাপতি থেকে শুরু করে সবাই ছিলেন এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে। তবে নাটক করেও যে খুব বেশি সফল হয়েছেন তারা, তেমনটাও নয়। ওয়েলসের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিস কোলম্যানকে বাদ দিয়ে অবশেষে তারা চূড়ান্ত করেছে জার্মান বংশোদ্ভূত সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার টমাস ডুলিকে। দায়িত্ব নিতে ইতিমধ্যে সরাসরি ঢাকায় চলে এসেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন ডুলি।
হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর থেকেই নতুন কোচ খুঁজছিল বাফুফে। কয়েক দফা আলোচনা ও নানা গুঞ্জনের পর অবশেষে থমাস ডুলির ওপর আস্থা রাখল দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এশিয়ান ফুটবলে কাজ করার দক্ষতাকেই তার নিয়োগের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খেলোয়াড়ি জীবনে ডুলির ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবার ও জার্মান মায়ের সন্তান ডুলি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১ ম্যাচে ৭ গোল করা এই ডিফেন্ডার অংশ নিয়েছিলেন ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কও ছিলেন।
ক্লাব ফুটবলেও ছিল তার সফল উপস্থিতি। জার্মানির শীর্ষ ক্লাব বায়ের ০৪ লেবারকুসেন, এফসি শালক ০৪ এবং এফসি কাইসারসেøাটার্নের হয়ে খেলেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে শালকের হয়ে উয়েফা কাপ জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার ঝুলিতে।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে ২০০২ সালে কোচিংয়ে নাম লেখান ডুলি। পরে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালে ফিলিপাইন জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিয়ে দারুণ সাফল্য পান। তার অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং ফিফা র্যাংকিংয়ে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে। সবশেষে তিনি গায়ানা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে গায়ানা চারটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায়। এছাড়া ভিয়েতনামের ক্লাব ভিয়েত্তেল এফসির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
ডুলির নিয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে বাফুফে। সংস্থাটির মতে, দল গঠন ও তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে তার। এশিয়ান ফুটবলের বাস্তবতা ও সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কেও তার রয়েছে গভীর ধারণা। আগামী ৫ জুন ডুলির অধীনে প্রথমবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ সান মারিনো। ইউরোপের কোনো জাতীয় দলের বিপক্ষে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। নতুন কোচের হাত ধরে দেশের ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেই আশাবাদী ফুটবলপ্রেমীরা।
