শিরোপা জিতে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন রোনালদো

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে সৌদি প্রো লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জোড়া গোলে ৪-১ ব্যবধানে দামাককে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি বৃহস্পতিবার রাতে। এই জয়ে ২০১৯ সালের পর নিজেদের ১১তম লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করল আল-নাসর। আর ক্যারিয়ারের ৩৪তম ট্রফি জিতে এবার ফুরফুরে মেজাজে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

তবে রিয়াদের এই ঐতিহাসিক রাতটি কেবল উদযাপনের ছিল না, ছিল প্রবল আবেগেরও। ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে যখন আল-নাসরের শিরোপা নিশ্চিত, তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন রোনালদো! ৫টি চ্যাম্পিয়সনস লিগ ও ইউরোজয়ী মহাতারকার চোখে সৌদি লিগ জয়ের পর এই অশ্রু বুঝিয়ে দেয়, ফুটবলের প্রতি তার ক্ষুধা এখনো কতটা তীব্র। গ্যালারিতে থাকা পরিবারের দিকে আঙুল উঁচিয়ে রোনালদোর সেই কান্নার দৃশ্য ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়।

২০২৩ সালের শুরুতে আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর সৌদি ফুটবলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও বড় কোনো শিরোপার দেখা পাচ্ছিলেন না সিআরসেভেন। গত সপ্তাহেই আল হিলালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ে, তার ওপর হাতছাড়া হয় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর ট্রফি। ফলে চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল সমালোচনা। দামাকের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই ছিল রোনালদোর জন্য এক চরম অগ্নিপরীক্ষা।

শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে সমীকরণ ছিল  স্পষ্ট জিততেই হবে আল-নাসরকে। ৫১ মিনিটের মধ্যে দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ৫৭ মিনিটে দামাক এক গোল শোধ করলে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন রোনালদো। ৬২ মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক ফ্রি-কিকে ব্যবধান ৩-১ করার পর, ৮০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।

এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বিশ্বের চতুর্থ ভিন্ন দেশে লিগ শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তি গড়লেন রোনালদো। এর আগে ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতে লিগ জিতেছেন তিনি। একই সঙ্গে এই মৌসুমে লিগে ২৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ৯৭৩-এ, যা তাকে হাজার গোলের আরও কাছে নিয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে রোনালদোর আবেগঘন কান্না নিয়ে সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স বলেন, ‘ক্রিস এখানে লিগ শিরোপা জেতার জন্য কতটা উদগ্রীব ছিল, তা আমি প্রতিদিন ওকে খুব কাছ থেকে দেখে উপলব্ধি করেছি। এই ট্রফিটার জন্য ও ভেতরে ভেতরে অনেক কষ্ট পাচ্ছিল। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগে আমি ওকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত