বিশ্বমঞ্চে আবারও জ্বলে ওঠার লক্ষ্য ব্ল্যাক স্টারসদের

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ঘানা বিশ্বমঞ্চে সবসময়ই এক রোমাঞ্চকর এবং লড়াকু ফুটবল সংস্কৃতির নাম। ‘ব্ল্যাক স্টারস’ খ্যাত এই দলটি ২০১০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক রূপকথা দিয়ে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘানার ফুটবল পারফরম্যান্সের গ্রাফটা বেশ হতাশাজনক। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপসহ গত তিনটি বড় টুর্নামেন্টের (একটি বিশ্বকাপ ও দুইটি আফ্রিকান কাপ অব নেশনস) প্রতিটিতেই তারা গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালেও পর্তুগাল ও উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্বের তলানি থেকেই। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ২০১০ সালের গৌরবময় ও ইতিবাচক পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই নতুন যাত্রা শুরু করছে ঘানা।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে দলের হাল ধরেন সাবেক ঘানাইয়ান ফুটবলার ও কোচ ওটো আড্ডো, যিনি কাতার বিশ্বকাপেও এই দলের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৬ বিশ্বকাপে ঘানার হয়ে মাঠ কাঁপানো আড্ডো প্রথম ঘানাইয়ান হিসেবে একই দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এবং ডাগআউটে কোচের ভূমিকা পালন করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। তার অধীনেই বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ঘানা। অভিজ্ঞদের চেনা ধার আর ইউরোপীয় ক্লাবে খেলা একঝাঁক তরুণ প্রতিভার গতিময়তা নিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্ল্যাক স্টারসরা।

ওটো আড্ডোর কৌশল ও শক্তিমত্তা

ঘানার প্রধান শক্তির জায়গা হলো তাদের ফুটবলারদের সহজাত শারীরিক শক্তি, গতি এবং কাউন্টার-অ্যাটাকে (প্রতি-আক্রমণ) প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করার ক্ষমতা। কোচ ওটো আড্ডো আধুনিক ইউরোপীয় ঘরানার প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে আফ্রিকান ফুটবলশৈলীর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে দলকে আক্রমণাত্মকভাবে গড়ে তুলছেন।

দলের বড় শক্তি হলো তাদের আক্রমণভাগের ক্ষিপ্রতা। বিশেষ করে উইং এবং ফরওয়ার্ড লাইনে থাকা ইউরোপের শীর্ষ লিগের তারকাদের গতি যেকোনো শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য বড় ভয়ের কারণ হতে পারে।

মূল ভরসা আইয়ু, কুদুস ও সেমেনিও

ঘানার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও অন-ফিল্ড লিডারশিপের আসল ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড জর্ডান আইয়ু (লেস্টার সিটি)। বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ সাতটি গোল করে তিনি বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

মাঝ মাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভীতি ছড়ানোর মূল কারিগর থাকবেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা মোহামেদ কুদুস (টটেনহ্যাম স্পার্স)। আর আক্রমণভাগে তার সঙ্গে গতির ঝড় তুলতে বড় ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বোর্নমাউথের ক্ষিপ্রগতির ফরোয়ার্ড অ্যান্টোইন সেমেনিও। তরুণ ও অভিজ্ঞদের এই ত্রিফলা আক্রমণভাগের ওপর ভর করেই এবার গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো ও মরক্কোর মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত ঘানা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত