দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জেলার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুর অংশে মালবাহী ট্রলার, বালুবাহী বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযানে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল আন্তঃজেলা ডাকাতচক্র ‘টিক্কা বাহিনী’। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই গভীর রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নৌযানে হামলা চালাতো চক্রটি। নৌযানের শ্রমিক ও মাঝিদের মারধর, নদীতে ফেলে দেওয়া এবং টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান মালামাল লুট ছিল তাদের নিয়মিত কর্মকাণ্ড।
অভিযুক্ত ডাকাত সর্দার মজিবুর রহমান আকন ওরফে ‘টিক্কা’র বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। দুর্ধর্ষ এই ডাকাতকে গ্রেপ্তারে নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন আশুলিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর (নি.) মোহাম্মদ দাউদ, এএসআই (নি.) শরীফুল ইসলামসহ নৌ পুলিশের একটি চৌকস দল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরের পুবাইল থানার মাজুখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিক্কাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাভার মডেল থানার মামলা নং-৮(২)২৫, ধারা ৩৮৫/৩৯৫/৩৯৭-এর আসামি।
তবে গ্রেপ্তারের সময় ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে টিক্কা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পাকা সড়কে পড়ে গিয়ে তিনি মাথার পেছনে, মেরুদণ্ড ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান। এসময় পুলিশ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ দাউদ ও কনস্টেবল সজিব মিয়াও আহত হন।
আহত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি আবার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত অন্য দুই সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ‘টিক্কা বাহিনী’র বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
