ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী

এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

আগামী এক মাসের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু দেশের মানুষের অধিকার আর অর্থ-সম্পদই লুট করেনি, বিচার বিভাগসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে মানবতা, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুতে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ নষ্টের চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। গতকাল ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বব্যাপী বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি ঘোষণা করা যায় কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।

নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে কাজী নজরুল মানেই বাংলা সাহিত্যের এক নতুন মোড়ের উদয়, বাংলা সাহিত্যের এক নতুন বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারীর অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ, অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব ও মানবতার উদাহরণ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনসহ উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বক্তব্য রাখেন কবির দৌহিত্র খিলিখিল কাজী। এর আগে ত্রিশাল উপজেলার বইলরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধরার খালের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃসকদের জন্য কৃষি কার্ড, কোমলমতি শিশুদের জন্য স্কুলব্যাগ, পোশাক, খাবার, ইমামদের জন্য ভাতা কার্যক্রম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে। একটা শ্রেণি এসব কথা না বলে শুধু ষড়যন্ত্র করে আর রাস্তাঘাটে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ করতে চায়।

এ অনুষ্ঠানে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন। সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়া।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপির সরকার গঠন করায় তাদের জ¦ালা ধরেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে, আপনারা তাদের সেগুলো নিয়ে বলতে দেখেছেন, প্রতিবাদ করতে দেখেছে? দেখেননি। কারণ তারা বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়। উন্নয়ন পরিকল্পনা নষ্ট হলে জনগণের ক্ষতি হবে। তাই এদেরকে আপনাদেরও প্রতিহত করতে হবে। পরে বিকেলে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সাংগঠনিক সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মহাসড়কে জনস্রোত

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুলজয়ন্তীর উদ্বোধনে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল নামে। সকাল ৯টার পর থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে গাজীপুরের চান্দনা, ভোগড়া, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এ সময় গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত