জলাবদ্ধতায় পচে গেছে আমনের বীজতলা, বিপাকে কৃষকরা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে রয়েছে অনেক ধানের মাঠ। এতে আমন চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পথ ও চ্যানেলগুলো বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে পারছে না। ফলে একদিকে ধানের মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় পচন ধরেছে আমনের বীজতলায়। এতে অনেক কৃষক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার ভিটাবাড়িয়া, গৌরীপুর, ধাওয়া,ইকড়িসহ অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতেও কোন কোন কৃষকের আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কৃষক লাবলু, ধাওয়া ইউনিয়নের পশরীবুনিয়া গ্রামের আঃ হালিম হাওলাদারম, ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মনির হোসেন আকন, আঃ খালেক মুন্সি, শিংহখালীর মো. মোজাম্মেল খানসহ একাধিক কৃষক জানান, আমন চাষের আশায় ধার দেনা করে বীজতলা তৈরি করেছিলেন তারা। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরি ও চারা সংগ্রহের জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা নিরশনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে পানি চলাচলের বিভিন্ন চ্যানেল স্থানীয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এ ব্যপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জলবদ্ধতা নিরশনের চেষ্টা করব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে এবং নতুন করে বীজতলা তৈরি এবং উপযুক্ত বীজ সংগ্রহের বিষয়েও কৃষকদের উপযুক্ত সহযোগিতা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত