ঘরেও নিরাপদ নয় শিশুরা

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

ঘর বা পরিচিত পরিবেশের মধ্যেই শিশুরা নানাভাবে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা বাইরের মানুষের চেয়ে পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা পরিচিত গৃহকর্মীদের দ্বারা বেশি নিগৃহীত হচ্ছে। ফলে শিশুরা ঘরেও এখন আর নিরাপদ নয়। বিষয়টি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে পাশের ভাড়াটিয়ার হাতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও চার শিশু ধর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেত্রেই ভিকটিম নিজ ঘরে আত্মীয় ও পাশের ভাড়াটিয়া দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। এ ছাড়া আরও তিন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। এদিকে সাভারে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ফুপা গ্রেপ্তার : গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকায় ৯ বছরের শিশুকে চিপসের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে আপন ফুপাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। অভিযুক্ত সেলিম খানকে (৪০) শনিবার রাতে পূবাইল থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে পূবাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার বিক্রমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ খানের ছেলে সেলিম খান পাঁচ বছর ধরে পূবাইলের হায়দরাবাদ গজারিয়ারটেক এলাকায় তার শ্যালকের (বাদীর) বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। নিঃসন্তান সেলিমের ঘরে বাদীর শিশুকন্যাটি প্রায়ই যাওয়া-আসা করত। গত শনিবার দুপুরে সেলিমের ঘরে মেহমান আসায় বাদীর বড় মেয়ে ওই কক্ষে যান। সেখানে সেলিমের ব্যবহৃত কম্পিউটারে তিনি ছোট বোনের কিছু আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি পরিবারকে জানান।

পরে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, সে জানায় তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে ফুপা সেলিম। গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে’র মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সেলিম তাকে চিপস বা বিভিন্ন খাবারের লোভ দেখিয়ে শয়নকক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে। পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, মামলা রেকর্ডের পর আসামিক ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ধর্ষণের পর শিশুকে বাড়ির সামনে রেখে যায় অভিযুক্ত : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। সে উপজেলার তেলিকান্দা উত্তরপাড়া গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহিদুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। সহিদুল একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো ওই শিশু শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী সহিদুল মিয়া চিপস দেওয়ার কথা বলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে সহিদুল শিশুটিকে নদীতে গোসল করিয়ে বাড়ির সামনে রেখে যায়। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থতা বোধ করলে সে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ : নারায়ণগঞ্জ সদরে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাশের ভাড়াটিয়া আনোয়ার হোসেনের (৪৮) বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পৃথক ঘটনায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত শনিবার সকালে ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকায় বাসায় একা পেয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন পাশের ভাড়াটিয়া আনোয়ার হোসেন। বিষয়টি শিশুর মা তাৎক্ষণিক কাউকে কিছু জানায়নি। রবিবার সকালে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে আনোয়ারকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে। আনোয়ার জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেলগাছা গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।

অন্যদিকে গতকাল সকালে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রতাবনগর এলাকায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত ইটভাটায় ছয় বছরের পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন নাজির হোসেন (৩৫) নামে ব্যক্তি। বিষয়টি এলাকাবাসীর দৃষ্টিতে পড়লে নাজির পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে তাকে বক্তাবলী বাজারে আটক করে। এরপর গণপিটুনি দিয়ে নাজিরকে পুলিশে সোপর্দ করে। নাজির বক্তাবলী প্রতাবনগর এলাকার জুলহাস মিয়ার ছেলে। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, দুই শিশুকেই উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আটক : বরগুনার আমতলীতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার খালু আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৮ মে সকালে উপজেলার খাকদোন গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গেছে, দুই বছর বয়সে ওই কিশোরীর মা মারা যান। এরপর থেকে সে নানাবাড়িতে থাকে। ১৭ মে রাতে খালু আলমগীর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরদিন সোমবার সকালে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ভিকটিম ঘটনাটি নানিকে জানালে তিনি আমতলী থানায় অভিযোগ দেন। গত শনিবার রাতে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভিকটিমের নানি বলেন, বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওর কঠোর শাস্তি দাবি করছি। ভুক্তভোগী জানান, নানাবাড়িতে একা পেয়ে খালু আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আমি তার শাস্তি দাবি করছি। আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আলমগীরকে আদালতে পাঠানো হবে। কিশোরীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

সাভারে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ : সাভারে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের আলিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম রানা, সাকিব ও মজিবুর রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ কাউন্দিয়া এলাকায় তার বাবা-মা ও স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। তাকে বাসায় রেখে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা মিরপুর-১ নম্বরে উরসে যান। এ সুযোগে গভীর রাতে সাইফুল ও সাকিব জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে। বাইরে মজিবুর, মেহেদী হাসানসহ অজ্ঞাত আরও একজনকে পাহারায় রেখে যায়। পরে বাইরে থাকা তিনজন ভেতরে প্রবেশ করে গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ শেষে তারা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত শনিবার গৃহবধূর মা বাদী হয়ে চারজনের নামসহ অজ্ঞাত একজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। কোর্ট ওসি কামাল হোসেন বলেন, রবিবার তদন্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় মামলার শুনানি হয়নি। আগামী ২ জুন ধার্য করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানি হবে। সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার : পাবনার ঈশ্বরদীতে চার বছর বয়সী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাহাত প্রামাণিক (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাহাত প্রামাণিক ওই এলাকার মৃত পিরু আলী প্রামাণিকের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, রাহাত প্রামাণিক আমাদের প্রতিবেশী। তিনি কিছুদিন ধরে আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে আসছিল। শুনিবার দুপুরে বাড়ির সামনে মেয়ে খেলাধুলা করার সময় তাকে কোলে তুলে আদর করার ছলে বাড়িতে নিয়ে যায় রাহাত। একপর্যায়ে তাকে ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। তার কান্নার শব্দ পেয়ে আমার স্ত্রী রাহাতের বাড়িতে গেলে রাহাত তাকে ছেড়ে দেয়।

শিশুর বাবা আরও বলেন, কান্নার কারণ জানতে চাইলে মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে রাহাতের কু-আচরণ সম্পর্কে জানায়। বিষয়টি শোনার পর বুঝতে পারি, রাহাত তাকে শ্লীলতাহানি করেছে। এরপর ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করি। ছোট্ট শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনার বিচার দাবি করছি। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, শিশুর বাবা একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রাহাতকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছি। শ্লীলতাহানির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হয়েছে। রবিবার দুপুরে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, মীমাংসার চাপ : কুমিল্লার লাকসামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবদুল রশিদ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলি। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটির মা-বাবা কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত রশিদ। তখন শিশুটির মা ঘরে ফিরে এলে রশিদ পালিয়ে যায়। শিশুটিকে গতকাল সন্ধ্যায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার করেন। তবে পরিবার শিশুটিকে সেখানে না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকসহ রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শিশুটির পরিবারকে মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

শিশুটির মা জানান, দুপুরে ঘরে ফিরে দেখি, লোকটা (রশিদ) মেয়ের সঙ্গে খারাপ কাজের চেষ্টা করছে। শিশুটির বাবা বলেন, এলাকার লোকজন বলছে বিচার করে দেবে, এ জন্য আর মামলা করতে চাই না। একই গ্রামে থাকি, এলাকার লোকজনের বাইরে যাব কীভাবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা এমদাদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, শিশুটির সঙ্গে কিছু হয়নি। শুধু তার হাতের মধ্যে একটি কামড় দিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার করে দেব বলেছি ওই পরিবারকে।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলি বলেন, শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযুক্ত আত্মগোপনে আছেন। আমরা ভিকটিমের পরিবারকে মামলা দেওয়ার জন্য বলেছি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত