বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মধ্যবর্তী এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার মৃত ঞোমং তংচঙ্গ্যা ছেলে অক্যমং তংচঙ্গ্য (৪০), মৃত উইমং তংচঙ্গ্যার ছেলে চিক্যং তংচঙ্গ্য (৩৪), সুনি অং তংচঙ্গ্যার ছেলে শৈফুচিং তংচঙ্গ্য (৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের বিকট শব্দের পর সীমান্ত এলাকায় তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহতরা সকালে সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে ওই এলাকায় স্থলমাইন পোঁতা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞাত বিস্ফোরক ও মাইন থাকার গুঞ্জন রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমিতে চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘুমধুম ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল চাকমা বলেন, ওই তিনজন সকালে মিয়ানমার সীমান্তে কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় মিয়ানমারের স্থলমাইন বিস্ফোরণে একজন নিহত হন, তাকে উদ্ধার করতে গেলে আরও দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।
