ঈদের আগে ও পরের প্রস্তুতি

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

ঈদের আগেই পশু জবাই করার ছুরি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, চাপাতি, প্লাস্টিক ম্যাট, চাটাই, গাছের গুঁড়িসহ সবকিছু কিনে রাখুন। কারওয়ান বাজার ছাড়াও নিউমার্কেট, গুলশান-১ নম্বরে অবস্থিত ডিএনসিসি মার্কেট, চকবাজার, কাপ্তানবাজার, খিলগাঁও বাজার, মিরপুর-১ নম্বরসহ সিটি করপোরেশনের প্রায় সব মার্কেটে ছুরি, বঁটি, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সব জিনিস পেয়ে যাবেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। মাংস কাটা ও ভাগাভাগির জায়গায় যেন রক্ত লেগে না থাকে। স্যাভলন বা ডেটল পানি দিয়ে স্থানটি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন। কোরবানির সরঞ্জাম চাকু, চাপাতি এসব বড় একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে তার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে পারেন ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত। এভাবে সম্ভব না হলে গরম পানিতে পরিষ্কার করে নিন।

জীবাণুমুক্ত থাকুন

মাংস ভাগবাটোয়ারা ও বিলি-বণ্টনের সময় হাতে, শরীরের অন্যান্য অংশে, কাপড়ে ও ঘরের মেঝেতে রক্ত লেগে যেতে পারে। চেষ্টা করুন যাতে না লাগে। লাগলে যত দ্রুত সম্ভব সাবান দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে ফেলুন। সহজে পরিষ্কার না হলে হালকা-গরম পানি ও সাবান ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার করার পর ত্বক মুছে শুকনো করে নিন। চাইলে কাজ শুরুর আগে গ্লাভস পরে নেওয়া যেতে পারে। মেঝে পরিষ্কার করতে কুসুম-গরম পানি এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

মাংস রান্না ও সংরক্ষণ

আধা সেদ্ধ মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মাংস রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। ফ্রিজে রাখতে চাইলে ছোট ছোট প্যাকেট করে রাখুন। বেশি পরিমাণ মাংস চাপাচাপি করে ফ্রিজে রাখতে গেলে অনেক সময় ফ্রিজের দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয় না। বিষয়টি খেয়াল রাখুন। মাংস প্যাকেটজাত করার সময় মাংসের গায়ে রক্ত যেন লেগে না থাকে। ধুয়ে পানি ঝরিয়ে তারপর জিপলক ব্যাগে রাখুন। ধোয়া সম্ভব না হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে রক্ত মুছে রাখুন। মাংস নিয়ে দূরে যেতে হলে ঝটপট গুছিয়ে রওনা দিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাংসের খাদ্যগুণ কমতে থাকে।

রান্নার পদ্ধতি

মাংস সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করে খাওয়া উচিত। বিভিন্ন ধরনের আইটেম তৈরি করা যায়Ñ ভুনা করে রান্না, বিভিন্ন ধরনের কাবাব, গ্রিল, বেকড, বারবিকিউ ইত্যাদি। তবে গরুর মাংসের ক্ষতিকর দিক কমানোর জন্য রান্নায় পরিবর্তন প্রয়োজন। যেমনÑ মাংস যদি বাঁধাকপি দিয়ে রান্না করা হয়, তাহলে চর্বি কমে যায়। রান্নার শেষভাগে মাশরুম দিয়ে রান্না করলে মাংসের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। গরুর মাংস খাওয়ার সময় অবশ্যই লেবুযোগে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ মাংসের আয়রন শোষণের জন্য লেবুর রস খুবই জরুরি। তা ছাড়া লেবুর রস দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। যদিও গরু-খাসির মাংসকে স্বাস্থ্যের সমস্যায় অনেকাংশে দায়ী করা হয়, কিন্তু গরুর মাংসে উপকার উপাদানই বেশি ক্ষতিকর সম্পৃক্ত চর্বির অংশটুকু। অতএব চর্বি ছাড়া গরুর মাংস অথবা ঝোল ছাড়া গরুর মাংস লেবুযোগে সব ধরনের রোগেই গ্রহণ করা যায়। গরুর মাংসে ইউরিক অ্যাসিড বেশি, তাই আর্থ্রাইটিস রোগীরা খেলে ব্যথা বাড়ে। তবে আর্থ্রাইটিস রোগীরা সে ক্ষেত্রে কম প্রোটিন ও ফ্যাটসমৃদ্ধ মহিষের মাংস খেতে পারেন।

কীভাবে রান্না করবেন

রান্না করার আগে মাংসের মধ্যকার দৃশ্যমান চর্বিগুলো যতটুকু সম্ভব ফেলে দিন। অল্প তেলে মাংস রান্না করুন। রান্নার ফলে মাংসের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে। অল্প তাপে এর প্রোটিন জমাট বাঁধে ও নরম হয়। মাংসে কোলাজেন নামক যে পদার্থ থাকে, তা জমাট বাঁধে না। অধিক তাপে মাংসের প্রোটিন কঠিন ও সংকুচিত হয়। সুতরাং বেশি তাপে রান্না না করে অল্প তাপে রান্না করাই ভালো। রান্নার সময় মাংসের ভিটামিন, প্রোটিন ও খনিজ লবণের অপচয় যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখুন। মাংসের টুকরো বড় করলে পুষ্টিমূল্য ভালো থাকে। তাপে থায়ামিন নষ্ট হয় ৩০ শতাংশ। অল্প তাপে রান্না করলে মাংসের থায়ামিন ঠিক থাকে। মাংসের ঝোলের মধ্যে বি-ভিটামিন দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

 জেনে রাখা ভালো

মাংস শরীরে বিপাক প্রক্রিয়ায় শোষণ হওয়ার পর আমিষের অপ্রয়োজনীয় অংশ কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে শরীর থেকে মূত্রের আকারে বের হয়ে যায়। পরিমাণমতো পানি এ কাজে সহায়তা করে। ঈদের কয়েক দিন প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ গ্লাস পানি পান করা ভালো।

ঈদে মাংসের সঙ্গে কাঁচা সালাদ খান, সঙ্গে লেবু, কাঁচা পেঁপে রাখুন। সবজি খেতে ভুলবেন না। কাঁচা পেঁপে ও আনারস আমিষজাতীয় খাবার হজমে সহায়তা করে। খাওয়া শেষে মৌরি খাওয়া হজমের জন্য ভালো। খুব বেশি অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে এক টেবিল চামচ অ্যাপল সিডর ও ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত