লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণার পরপরই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ বেশকিছু কৌশলগত এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নতুন এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরপরই লেবাননজুড়ে নতুন এই বিমান হামলা শুরু হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকা এবং এর আশেপাশের এলাকায় হিজবুল্লাহর নির্দিষ্ট অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
এর আগে, গত সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েল বর্তমানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে এবং তিনি সামরিক বাহিনীকে তাদের শক্তি প্রতিরোধ করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে ৬০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিরোধক নির্মূল করা হয়েছে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুতে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছিল। তবে এই চুক্তির মধ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে সংঘাত চলছিল। গত ১৬ এপ্রিল প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা মূলত দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইসরায়েলের দাবি, ওই অঞ্চল থেকে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে সোমবার রাতের হামলাটি হয়েছে সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায়, যা সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। তবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে জরুরি সেবা কর্মীরাও রয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফলে অঞ্চলটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়া সফল করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।
