চোট লুকিয়েই নেইমারকে দলে ডাকে ব্রাজিল!

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ব্রাজিলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের আকস্মিক উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, নেইমারের চোটের বিষয়টি পর্দার আড়ালে সিবিএফ কর্তাদের কতটা নাড়িয়ে দিয়েছে. প্রথম দিনের মাঠের অনুশীলনে অনুপস্থিত থেকে নেইমার কেবল জিমনেসিয়ামে হালকা কাজ করেছিলেন এবং পরে তেরেসোপোলিসের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাঁর এমআরআই করানো হয়. সেই পরীক্ষাতেই তাঁর ডান পায়ের কাফে ‘গ্রেড-টু’ মাত্রার চোট ধরা পড়ে, যা তাকে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এই চোটের কারণে তিনি ৩১ মে পানামা এবং ৬ জুনের মিশর ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন, পাশাপাশি বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচেও তাঁর খেলা শঙ্কায় পড়েছে. তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই চোটের কথা জেনেও কেন কার্লো আনচেলত্তির দল নেইমারকে স্কোয়াডে রেখেছিল?

ইএসপিএন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেইমারের চোটের গভীরতা সম্পর্কে সিবিএফের কাছে আগে থেকে সঠিক কোনো তথ্য ছিল না. নেইমারের বর্তমান ক্লাব সান্তোসের মেডিকেল বিভাগ থেকে ব্রাজিল জাতীয় দলের চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, নেইমারের কাফের সমস্যাটি অত্যন্ত সামান্য বা মৃদু প্রকৃতির. সান্তোস জানিয়েছিল, এই চোট বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না. ক্লাবের এমন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কোচ কার্লো আনচেলত্তি সব আবেদন ও গুঞ্জনকে পাশে সরিয়ে এই মেগা তারকাকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবারের এমআরআই রিপোর্টে গ্রেড-টু ইনজুরি নিশ্চিত হওয়ার পর, নেইমারের চিকিৎসার পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন সিবিএফ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে. এই বড় ধাক্কার পরেও কোচিং স্টাফ ও টেকনিক্যাল কমিটির জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নেইমারকে দল থেকে বাদ না দিয়ে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপেক্ষা করা হবে।

ব্রাজিলের হয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নেইমার বর্তমানে জাতীয় দলের মেডিকেল টিমের বেঁধে দেওয়া বিশেষ চিকিৎসা প্রোটোকল বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

নেইমারকে স্কোয়াডে ধরে রাখলেও সিবিএফ অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করবে না. আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে. সিবিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন (বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক আগের দিন) পর্যন্ত নেইমারের শারীরিক উন্নতির ওপর কড়া নজর রাখা হবে. এই সময়সীমার মধ্যে তিনি যদি সম্পূর্ণ ফিট হতে না পারেন, তবে দল থেকে তাঁর বাদ পড়ার বা বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবলভাবে বেড়ে যাবে.

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত