হামলার শিকার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে শনিবার বিকেলে বিজেপি কর্মীদের হামলার মুখে পড়েন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরে পৌঁছালে বিজেপি সমর্থকরা তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তার দিকে ডিম, জুতো ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হয়। কয়েকজন পুরুষ বিক্ষোভকারী তাকে ধাক্কা দেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীরা ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। হেলমেট পরে রাস্তায় হাঁটার সময় অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায় বলেও জানা গেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কটূক্তি করেন।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এরা সবাই বিজেপির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতী। আমাকে মারতে চাইলে মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে উদ্ধার হোক, তবুও আমি কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছেড়ে যাব না। আমি পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করছি। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করব এবং আদালতের দ্বারস্থ হব।’
অভিষেক সোনারপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। অভিযোগ, নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার বেলেঘাটায় গিয়ে আরেক তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনিও নির্বাচনের পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে, আর তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন। দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত হন।