ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২২

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

রুশ বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির রাজধানী কিয়েভ, দিনিপ্রো শহরসহ দেশটির অন্তত সাতটি অঞ্চলে এ ভয়াবহ হামলায় চালানো হয়। এ হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একে কিয়েভের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ পাল্টা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হামলা প্রসঙ্গে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এক রাতে রেকর্ডসংখ্যক ৬৫৬টি ড্রোন ও ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা কঠিন, এমন ৩৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৮টি ‘জিলকন’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। রুশ বাহিনী একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এর আগে কখনো ব্যবহার করেনি। ইউক্রেনীয় বাহিনী ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও জিলকন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

রাজধানী কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, হামলায় কিয়েভেরই ৬ জন বাসিন্দা নিহত এবং ৩ শিশুসহ ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলায় অন্তত নয়টি বহুতল আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে ২ শিশুসহ ১৬জন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। হামলার পর কিয়েভের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। হাজার হাজার বাসিন্দা জীবন বাঁচাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোয় আশ্রয় নেন।

এদিকে এ হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে একবারে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কংগ্রেসের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করা না যায়, তবে রাশিয়ার এ বর্বরতা চলতেই থাকবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কোতে সাংবাদিকদের বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কিয়েভ বাহিনীর অমানবিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে যুদ্ধ এখন একটি ‘নতুন মাত্রায়’ প্রবেশ করেছে।

গত ২২ মে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা লুহানস্কের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হন। পুতিন সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে কিয়েভ অপরাধের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। মস্কো গত সপ্তাহেই হুমকি দিয়েছিল যে এর জবাবে কিয়েভে ‘পদ্ধতিগত হামলা’ চালানো হবে। তবে ইউক্রেনের দাবি, তারা কোনো ছাত্রাবাসে নয়; বরং ওই এলাকার একটি ড্রোন কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যে চার বছর পার করেছে। মার্কিন প্রশাসনের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের দিকে থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগার এবং সীমান্ত অঞ্চলে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। সোমবার রাতেও রাশিয়ার ক্রাসনোদর অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। এ ছাড়া বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে এক শিশু আহত হয়। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা রাতারাতি ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত