বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের করপোরেট খাতের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ খান। একই সাথে নতুন তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আগামী ৪ বছরের জন্য এই নিয়োগ চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিএসইসির কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক। উল্লেখ্য, চারজন কমিশনার পদের মধ্যে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও একটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এর আগে সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী পূর্বে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৬৫ বছর। তবে ৭১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ করপোরেট লিডার মাসুদ খানকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে সম্প্রতি আইনে বড় পরিবর্তন আনে সরকার। গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বয়সসীমার এই বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। এই আইনি সংস্কারের ফলেই তার নিয়োগের পথ সুগম হয়েছে।
আইন অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৪ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে নিয়োগের প্রধান শর্ত হিসেবে, বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের আগে মাসুদ খানকে অন্য সব করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে। সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির আলোকেই তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে।
মাসুদ খান বর্তমানে ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের সিইও এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সিএফও এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর দেশ ও বিদেশে ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে ছিলেন। এছাড়াও ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন এই শক্তিশালী নেতৃত্বের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা, বাজারে শতভাগ সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকটগুলো দূর করা। ফিন্যান্স ও করপোরেট খাতের এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের হাত ধরে দেশের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক সংস্কার আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা বাজার সংশ্লিষ্টদের।
