ঢামেক হাসপাতালে সফল কিডনী প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনী প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. রফিকূল ইসলাম। তিনি জানান, ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন যেখানে ব্রেইন-ডেড বা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস, কর্নিয়া ইত্যাদি এইভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঙ্গ জীবিত দাতার কাছ থেকে নেওয়া যায় না।

বাংলাদেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব হলেও বাস্তবে সীমিত। ২০২৩ সালে প্রথম ক্যাডাভারিক কিডনী প্রতিস্থাপন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্রেইন-ডেড রোগীর শরীর থেকে দুজন রোগীর কিডনী নেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়মিত বা প্রতিষ্ঠিত প্রোগ্রাম এখনও গড়ে ওঠেনি।

ডা. রফিকূল ইসলাম আরও বলেন, ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, সচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় স্তরের সমন্বিত ব্যবস্থা নেই। তবে ‘মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দেশের চিকিৎসা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. রফিকুল ইসলাম।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইমোশনাল ডোনার এবং জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি চালু হলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা হবে। নতুন আইন কঠোর নৈতিক সুরক্ষা বজায় রেখে অঙ্গদানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করবে।

এর ফলে, বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রোগ্রাম বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া শুরু করবে এবং শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় ভোগা রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত